অভিনন্দন বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রিকেটার মুস্তাফিজ

0
114

নিউজ ডেস্ক :: বছর ঘুরে আরেক ডিসেম্বর এসে যেতেই মুস্তাফিজুর রহমানের অর্জনের মালা নতুন ফুলে আরো সুশোভিত। সাতক্ষীরার দূর গ্রাম থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মহাসড়ক দুরন্ত গতিতে দাবড়ে বেড়ানো তরুণ একের পর এক ‘প্রথম’-এর দেখা পেয়েই চলেছেন।

ওয়ানডে ও টেস্ট—দুই ধরনের ক্রিকেটেই অভিষেকে ম্যাচ সেরা হওয়া ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার গত বছর ডিসেম্বরে প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে সুযোগ পেয়েছিলেন আইসিসির বর্ষসেরা ওয়ানডে দলে। এই ডিসেম্বরে মিলল আরেকটি স্বীকৃতি। এবার নির্বাচিত হলেন ২০১৬ সালে আইসিসির বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রিকেটার। যা কোনো বাংলাদেশির আইসিসির বার্ষিক পুরস্কার জেতার প্রথম কীর্তিও।

গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ই পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে অবশ্য মাত্র তিনটি ওয়ানডে খেলে ৮ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ। তুলনায় একই সময়ে এ বাঁহাতি পেসার টি-টোয়েন্টিই খেলেছেন বেশি। ১০ ম্যাচে তাঁর শিকার ১৯ উইকেট। তাও আবার সেরা উদীয়মান ক্রিকেটার নির্বাচিত হওয়ার ঘোষণাটি এমন দিনে এলো, যেদিন পাঁচ মাস পর প্রথম ম্যাচ পরিস্থিতিতে বোলিং করতে নেমে দুটি উইকেটও নিয়েছেন ‘কাটার মাস্টার’। গতকাল ওয়াঙ্গারেইতে নিউজিল্যান্ডে একাদশের কাছে এক দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ হারলেও তাঁর বোলিংটা ছিল স্বস্তির খবর। স্বস্তির পাশাপাশি বাংলাদেশ শিবির তাঁর সেরা উদীয়মান ক্রিকেটার হওয়ার সুখবরও পেল। গত আগস্টে কাঁধে অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষে মাঠে ফেরা মুস্তাফিজের সামনে পুরস্কারটি এমন মর্যাদা নিয়েই হাজির হয়েছে, ‘এ পুরস্কারটি আমার জন্য বছরের সেরা উপহার। ’ যে উপহারে শেষ হতে চলা বছরটি রাঙিয়ে নেওয়া মুস্তাফিজকে এ স্বীকৃতি অনুপ্রাণিতও করছে খুব, ‘প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে আইসিসির বার্ষিক কোনো পুরস্কার জিতে আমি ভীষণ খুশি। এ পুরস্কার আমাকে সামনের বছরগুলোতে আরো ভালো খেলার ক্ষেত্রে অনুপ্রাণিত করবে। ’ সেই সঙ্গে তিনি আরো যোগ করেছেন, ‘সব উদীয়মান ক্রিকেটারেরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন থাকে। আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এতটুকু আসতে যাঁরা আমাকে সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যখনই মাঠে নামব, আমি নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে চেষ্টা করব। ’

মুস্তাফিজের আগে বাংলাদেশ থেকে আইসিসির বর্ষসেরা দলে একজনই সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে ২০০৯ সালে সাকিব আল হাসানের ঠাঁই হয়েছিল আইসিসির বর্ষসেরা টেস্ট দলে। যে অর্জনের পথে সাকিব পেছনে ফেলে এসেছিলেন বছর তিনেকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। অথচ মুস্তাফিজের প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে আইসিসির বর্ষসেরা ওয়ানডে দলে জায়গা করে নিতে লেগেছিল মোটে চার মাস। অবিশ্বাস্য শোনালেও সত্যি। গত বছরের এপ্রিলে আন্তর্জাতিক অভিষেক পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে। তাতে পারফরম্যান্সও উল্লেখযোগ্য ছিল; কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হইচই ফেলে দেওয়া বলতে যা বোঝায়, সেটি মুস্তাফিজ করে দেখান গত বছরের জুনে দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত ভারত সিরিজে। সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতেই নিয়ে নেন ১১ উইকেট। জিম্বাবুয়ের ব্রায়ান ভিটোরির পর ক্যারিয়ারের প্রথম দুই ওয়ানডেতেই ৫ বা এর বেশি উইকেট নেওয়া মাত্র দ্বিতীয় বোলার বনে যান তাতেই। সব মিলিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১৩ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডেরও যৌথ মালিক তিনি। এরপর জুলাইতে দেশেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও তিন ওয়ানডের সিরিজে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। গত বছর পারফরম্যান্স মূল্যায়নের জন্য বিবেচিত ২০১৪-র ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৫-র ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মাত্র ছয় ম্যাচ খেলেই ১২.৬১ গড়ে ১৮ উইকেট নেন মুস্তাফিজ। তাতেই জায়গা হয়ে যায় বর্ষসেরা ওয়ানডে দলে। এবার তাঁর অর্জনের খাতায় যুক্ত হলো সেরা উদীয়মান ক্রিকেটারের স্বীকৃতিও। এটি ঘোষিত হওয়ার দিন ‘জোড়া’ সাফল্য ভারতের রবিচন্দ্রন অশ্বিনের। বছরের সেরা টেস্ট ক্রিকেটার নির্বাচিত হওয়া এ অফস্পিনার হয়েছেন ২০১৬-র বর্ষসেরা ক্রিকেটারও। বর্ষসেরা ওয়ানডে ক্রিকেটার হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্টন ডি কক।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে