আজ ৭ ডিসেম্বর কোম্পানীগঞ্জ মুক্ত দিবস

0
125

কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি ::  আজ ৭ ডিসেম্বর, নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার আল-বদর, আল-সামস্ বাহিনী পরাজয় মেনে নেয়। সারাদেশের ন্যায় কোম্পানীগঞ্জেও মুজিব বাহিনীর বীর সেনা মুক্তিযোদ্ধারা সম্মুখ যুদ্ধ করে কোম্পানীগঞ্জকে হানাদার মুক্ত করে। দিবসটি পালন উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী দেশ ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিলে এ অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল অনেক বেড়ে যায়। ৭ ডিসেম্বর ভোর রাতেই মুক্তি যোদ্ধারা বর্তমান কোম্পানীগঞ্জ থানা ভবনে স্থাপিত রাজাকার ক্যাম্প আক্রমণ করে পাক পাক বাহিনীর ৯০ জন সশস্ত্র সদস্যকে আত্মসমর্পনে বাধ্য করে কোম্পানীগঞ্জকে মুক্ত করে। ১৯৭১ সালের ৪ঠা সেপ্টেম্বর মুজিব বাহিনীর সদস্যরা দু’গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অভিযানে অংশ নেয়। মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত ও শরাফত আলীর নেতৃত্বে প্রথম দলটি বামনীতে সফল অভিযান পরিচালনা করে ফিরে আসে। কিন্তু এ অঞ্চলের কমান্ডার আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বাধীন দ্বিতীয় দলটি বাংলাবাজারে অভিযানে যায় পাকবাহিনীরা মুক্তিবাহিনীর আগমণ বার্তা পেয়ে স্থান ত্যাগ করে ১৪নং স্লুইজ গেইট এবং বাঞ্ছারাম রাস্তার মাথায় বেড়িবাঁধের উপর ওঁৎ পেতে থাকে এবং মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বাধীন মুক্তিযোদ্ধারা ফিরে আসার সময় অতর্কিত হামলা চালায়।

পাকবাহিনীর অতর্কিত হামলার প্রত্যুত্তরে মুক্তিযোদ্ধারাও হামলা চালায়। উভয় দলের মাঝে প্রচন্ড লড়াই শুরু হয়। লড়াইয়ে অংশ গ্রহণকারী ১১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে ৬ জনই ঘটনাস্থলে শহীদ হয়। পরবর্তীতে খিজির হায়াতের নেতৃত্বে অপর দলটি লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করলে পাকবাহিনীরা পিছু হটে যায়। নিহত ৬ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে বেগমগঞ্জের ছালেহ আহম্মেদ মজুমদার, আখতারুজ্জমান লাতু ও সিরাজপুরের ইসমাইলের লাশ ঘটনাস্থল থেকে ২ কিলোমিটার পশ্চিমে ১৬নং স্লুইজ সংলগ্ন রাস্তার পার্শ্বে দাফনের ব্যবস্থা করেন। মুছাপুরের মোস্তফা কামাল ভুলুর লাশ তার বাড়ীর পাশে এবং সোনাপুরের আবদুর রব বাবুর লাশ ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫কিঃমিঃ পশ্চিমে বেড়ীর বাঁধের পাশে সমাহিত করে। নিহতদের মধ্যে আমান উল্যাহ ফারুকের লাশ নদীতে পড়ে গেলে ভাটার টানে চলে যাওয়ায় তার লাশ পাওয়া যায়নি বলে মুক্তিযোদ্ধারা জানান।

১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জে যারা শহীদ হয়েছেন তারা হলেন, সুধারামের এম.এ অদুদ, সেনবাগের আবুল খায়ের, চৌমুহনির আজাদ, বিরাহিমপুর শিব সাধন চক্রবতী, হরেন্দ্র চক্রবর্তী, রায়মোহন নাথ, আনছারুল হক, সচীন্দ্র কুমার দাস, বড় রাজাপুরের নির্মল চন্দ্র সূত্রধর, হাবিবপুরের ছানু মিয়া, সিরাজপুরের প্রধান্য কুমার দাস, সতীশ চন্দ্র দাস, করালিয়ার মাহবুবুল হক, চরপার্বতীর আবদুল কুদ্দুস, আবদুল মন্নান, এনামুল হক, মনির আহমদ, তোফায়েল আহম্মদ, শেখ আহমদ, চৌধুরীহাটের এরফান মিয়া, চরহাজারীর বজলুর রহমান, আবুল বাশার, সায়দুল হক, হানিফ চৌধুরী, চরকাঁকড়ার সিদ্দিক উল্যা, প্রফুল্ল কুমার নাথ, ফকির আহমদ, গোলাম মোস্তফা, মাহমুদ, এলাহী বকস, আবদুল মন্নান, মোহাম্মদ মোস্তফা, আবদুল আউয়াল, দেলওয়ার হোসেন, একরামুল হক, চরফকিরার গোলাম মাওলা, আলী আজম, ইউসুফ মিয়া, ওবায়দুল হক, রামপুরের আবদুস সাত্তার, মিজানুর রহমান, আবুল মোবারক, মুছাপুরের কালী মোহন নাথ, সরদা কুমার নাথ, গোলাম মাওলা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে