কুমিল্লা বোর্ডে ভয়াবহ ফলাফল বিপর্যয়: ইংরেজি ও গণিত ডুবিয়েছে শিক্ষার্থীদের!

0
100

শিক্ষা ডেস্ক :: বৈশাখের তপ্ত রোদের অসহ্য গরমে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কান্নায় আবারো ভিজলো কুমিল্লার শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন শিক্ষাঙ্গন। ভয়াবহ বিপর্যয়ের পরিসংখ্যান নিয়ে রেকর্ডকৃত শিক্ষার্থীদের ডুবিয়েছে ইংরেজি ও সাধারণ গণিতের ফলাফল।

গতবছর পাশের হার ৮৪ শতাংশ থাকলেও এবছর তা এক ধাক্কায় নিচে নেমে পৌঁছেছে ৫৯ দশমিক ০৩ শতাংশে! এখানেই শেষ নয়, কমেছে জিপিএ ৫ প্রাপ্তির হারও। ২০১৫ এর পর থেকে ক্রমান্বয়ে জিপিএ ৫ এর সংখ্যা কমে এবছর তা দাড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৫০টিতে। ফলে জিপিএ ৫ এর সংখ্যা কমেছে ২হাজার ৫০৪টি। ফলে কাঙ্খিত জিপিএ ৫ না পেয়ে রৌদ্রতাপেও অনেক শিক্ষার্থী যেমন অঝোরে কেঁদেছে তেমনি অনেকে কেঁদেছে রেজাল্ট শিটে নিজের রোল নং খুঁজে না পেয়ে। তাদের সান্ত্বনা দিয়ে আবারও উদ্যমী হতে উৎসাহ দিয়েছে অভিভাবক ও শিক্ষকরা।

এদিকে কুমিল্লা বোর্ডে কমেছে বিভাগ ভিত্তিক পাশের হারও। এবছর পাশের হারের দিক থেকে এগিয়ে আছে মেয়েরা কিন্তু জিপিএ ৫ প্রাপ্তির দিক থেকে এগিয়ে আছে ছেলেরা। এছাড়া রেকর্ডসংখ্যক হারে কমেছে শতভাগ পাশ করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। ২০১৫ সালে শতভাগ পাশ করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৭৬টি, তা কমে গতবছর দাঁড়ায় ১১৯টিতে। আর এবছর শতভাগ পাশ করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমে দাড়িয়েছে মাত্র ১৪টিতে। এছাড়া একজনও পাশ করেনি এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে দুটি।  

ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এবছর কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে ১লাখ ৮২হাজার ৯৭৯জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ১লাখ ৮হাজার ১১১জন শিক্ষার্থী। এবছর পাশের হার ৫৯ দশমিক ০৩ শতাংশ। যা গতবছরের তুলনায় ২৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ কম। এবছর জিপিএ ৫ পেয়েছে মাত্র ৪হাজার ৪৫০জন। ২০১৫ সালে জিপিএ ৫ প্রাপ্তির সংখ্যা ছিল ১০হাজার ১৯৫টি, ২০১৬ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৯৫৪টি। এই ফলাফলকেও হার মানিয়ে এবছর জিপিএ ৫ এর সংখ্যা দাড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৫০টিতে।  

এদিকে কমেছে বিভাগ ভিত্তিক ফলাফলের হারও। কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে চলতি বছরের ফলাফলে সবচাইতে বেশি পাশ করেছে বিজ্ঞান বিভাগে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ব্যবসায় শিক্ষা। সবচাইতে বেশি ফেল করেছে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এবছর বিজ্ঞান বিভাগে পাশের হার ৮৪ দশমিক ১৬ শতাংশ, তা গতবছর ছিল ৯২ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষায় পাশ করেছে ৫৬দশমিক ৫৬ শতাংশ যা গতবছর ছিল ৮৭ দশমিক ৩০ শতাংশ, মানবিকে পাশের হার ৪১ দশমিক ১৪ শতাংশ যা গতবছর ছিল ৭৪ দশমিক ৯০ শতাংশ। একজনও পাশ করেনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো চৌদ্দগ্রামের কাজী জাফর গালর্স হাই স্কুল ও পায়ের খোলা স্কুল।

এদিকে পাশের হারের দিক থেকে এগিয়ে আছে মেয়েরা এবং জিপিএ ৫ প্রাপ্তির দিক থেকে এগিয়ে আছে ছেলেরা। এবছর ৮৩হার ১শ জন ছাত্র পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে ৪৯ হাজার ৪৫৬জন। ছাত্রদের পাশের হার ৫৯ দশমিক ৫১শতাংশ এবং জিপিএ ৫ পেয়েছে ২ হাজার ২৯৭জন। এদিকে এবছর ৯৯ হাজার ৮৭৯ জন ছাত্রী পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে ৫৮ হাজার ৫৫৫জন। ছাত্রীদের পাসের হার ৫৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং জিপিএ ৫ পেয়েছে ২ হাজার ১৫৩জন।  

ফলাফল বিপর্যয়ের ব্যাপারে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শহিদুল ইসলাম বলেন, এবছর ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীরা খারাপ ফলাফল করেছে। ফলে এর প্রভাব মূল পাশের হারে গিয়ে পড়েছে।  
এদিকে ফলাফল বিপর্যয়ে সাময়িক হাওয়া লেগেছে কুমিল্লার শীর্ষে অবস্থানরত বিদ্যালয়গুলোতে। এবছর শতভাগ পাশ করতে পারেনি কুমিল্লার শীর্ষ দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জিলা স্কুল ও ফয়জুন্নেছা স্কুলের শিক্ষার্থীরা। সেই সাথে কমেছে জিপিএ ৫ প্রাপ্তির হারও। কুমিল্লা জিলা স্কুলের অনেক শিক্ষার্থীকে প্রত্যাশিত জিপিএ ৫ না পেয়ে মাঠে বসে কাঁদতে দেখা গেছে। আর যারা পেয়ে গেছে কাঙ্খিত ফলাফল তারা আনন্দেত মেতেছে বন্ধু, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাথে।  

তবে সার্বিক ফলাফলের ব্যাপারে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে কুমিল্লা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাশেদা আক্তার বলেন, কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের পাশের হার বিবেচনা করলে আমাদের স্কুলের ফলাফল তুলনামূলক নয়, অনেক ভালো। কুমিল্লা জিলা স্কুলে মাত্র দুজন অকৃতকার্য হয়েছে। বাকি সবাই জিপিএ ৫ এবং এ গ্রেডের মধ্যেই আছে। এবছর কুমিল্লা জিলা স্কুলে ৩৬৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৩৬৫ জন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ২৫৭জন এবং এ গ্রেড পেয়েছে ১০৮জন শিক্ষার্থী।  

এদিকে ফলাফল বিপর্যয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, এবছর শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে মূল্যায়নের নির্দেশিকা দেয়ার কারণে ফলাফল খারাপ হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে আমি মনে করি। যারাই পাশ করেছে পড়াশোনা করেই পাশ করেছে। তবে আমার মনে হয় মূল্যায়নের নির্দেশিকা প্রাথমিকভাবে একটু শিথিল হলে এতটা ফলাফল বিপর্যয় একসাথে হতো না।  

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এবছরের এসএসসি পরীক্ষায় যারা পাশ করতে পারেনি তারা হতাশ না হয়ে আবারও নতুনভাবে পড়াশোনা শুরু করতে হবে। শিক্ষার্থীরা মোবাইলে প্রচুর সময় নষ্ট করে। অভিভাবকদের এদিকে নজর দিতে হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে