গুগলের ডুডলে পহেলা বৈশাখ : বাঙ্গালিয়ানায় যাদের শরীর জ্বলে পারলে গুগল বন্ধ করেন !

0
176

গোলাম সারোয়ার :: শত সহস্র ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করেও বাঙ্গালীদের মানব স্রোত নেমেছে প্রতিটি নগরে, মহানগরে, জনপদে জনপদে। শাসকদের নতজানু নীতি, পাকিস্তানরোগীদের বোমা হামলার হুমকি অগ্রাহ্য করে মানুষের গণজোয়ার ভাসিয়ে নিয়ে গেছে জন্তু জানোয়ারদের কুৎসিত হুংকার।

এদেশে এখন কিছু কিছু মাটি ভেদ করা মানুষ বের হয়েছে যারা আমদানী করা বিজাতীয় কিছু সংস্কৃতি বাঙ্গালীদের উপর চাপিয়ে দিতে চায় ধর্মের নামে। এরা বাঙ্গালীদের ভাত খায়, কাপড় পড়ে, বাঙ্গালীদের জীবনের যাবতীয় সুযোগ সুবিধা ভোগ করে কিন্তু অন্তরে লালন করে করাচি মার্কা সংস্কৃতি।

বাঙ্গালীয়ানা দেখলে এদের শরীরে আগুন জ্বলে অথচ যাদের জন্যে তাদের অন্তরে এতো পেয়ার সেসব সংস্কৃতি এদের মিসকিন বলে, উদ্ধাস্তু হলে দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয়। তখন এরা আবারও এদেশের বট বৃক্ষের ছায়ার মায়ায় আশ্রয় নেয়। বাংলার দরাজ ভূমি যুগে যুগে এদের জায়গা করে দেয়।

ইদানিং বাংলাদেশের মৌলিক যে কোন ক্ষেত্রে এরা কথা বলা শিখেছে। অনেক বলেন সরকার এদের লাই দিয়ে মাথায় তুলেছেন। আমরা বলি না, সরকার নিজেই এখন ধর্মীয় কুসংস্কারের অবতার।

কোন সরকারের পায়ের নিচে যখন মাটি থাকেনা তখন তারা ধর্মীয় অপব্যাখ্যার উপর ভর করে। শুনতে খারাপ লাগলেও সরকার এখন কার্যত গণবিচ্ছিন্ন। গুটি কয়েক চাটুকার আর স্তাবক পরিবেষ্টিত থাকাতে সরকার মাটির আওয়াজ শুনতে পারতেছেন না।

সরকার ভুলে গেছে, তাদের রাজনৈতিক থিম হলো ধর্মনিরপেক্ষতা আর অসাম্প্রদায়িকতা। কিন্তু সরকারের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে তারা ডানপন্থীদের থেকেও বড় ডানপন্থী। শাপলা চত্বরের সেই স্মৃতি সরকারকে তাড়া তরে। কিন্তু সরকারকে মনে রাখতে হবে, শাপলা চত্বরে যত মানুষ দেখে তাদের নিউরণের চাপ নিতে কষ্ট হচ্ছে, বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িক বাঙ্গালী আছে তারচেয়েও হাজার গুণ বেশি।

বাঙ্গালীর বাঙ্গালীত্বের অহংকার আজ সারা বিশ্ব মেনে নিয়েছেন। আর তাই আজ পয়লা বৈশাখে বাংলার মানুষের প্রাণের উৎসবের সাথে একাত্ম হয়েছে টেক জায়ান্ট গুগলও। নববর্ষে গুগলের পক্ষ থেকে ডুডল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে। গুগল সার্চ ইঞ্জিনে প্রদর্শন করা হচ্ছে অ্যানিমেটেড ডুডল।

ডুডলে দেখানো হচ্ছে বৈশাখের অন্যতম আকর্ষণ মঙ্গল শোভাযাত্রার ছবি। সেখানে পেঁচা, বাঘ, সূর্য, চিতা ও পাখির কাঠামো রয়েছে। এর ওপর ক্লিক করলে সেটি নড়াচড়া করে।

এ ছাড়া ডুডলটির ওপরে মাউস পয়েন্টার ধরলে ‘হ্যাপি বাংলা নিউ ইয়ার’ (শুভ নববর্ষ) লেখা ফুটে ওঠে।

ইতিহাস হলো, ৪০০ বছর আগে সম্রাট আকবর বাংলা ক্যালেন্ডার উন্নত করেন। নতুন বছর উপলক্ষে হালখাতা পালন করেন ব্যবসায়ীরা। এ দিনে বাংলাদেশ রঙিন হয়ে সাজে এবং শোভাযাত্রা বের করে।

এদেশে নয় ছয় মেলা সার্কাস চলে দিনরাত সারাদিন। অথচ সমগ্র বাঙ্গালীদের একাকার এই প্রাণের উৎসবকে পাঁচটা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন সরকার। সরকার পাঠ্য পুস্তকে রদবদল করেছেন গায়েবি ইশারায়। সরকার সুপ্রিম কোর্টের আঙ্গিনাতে নাক গলাতে চায় আজানা ইশারায়।

সরকারকে বলবো, আপনারা গণবিচ্ছিন্ন। সেজন্যে নগরের সকল গলিতে জ্বিন ভূত দেখতেছেন। আপনারা দলের মূল অন্তর্নিহিত শক্তির উপর ভর করে ঈমান শক্ত করুন।

আপনাদের লোকজনের অন্যায়ের বিচার করুন। আইনসভা থেকে ইয়ারা ব্যবসায়ী, ভূমিদস্যু, জলমহান দস্যু, লুটেরাদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করুন। সকল স্তরের নেতাকর্মী আর কর্মকর্তা কর্মচারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনুন। দেখবেন মানুষই জ্বিন ভূত দেও দৈত্যদের করাচি নিক্ষেপ করবে।

আপনার তিনশত এমপি এখন অবতারের জীবন যাপন করতেছেন। তাঁদের কোন কাজে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন, প্রশ্ন করতে পারেন, তেমন বাপের বেটা আপনারা নিজেরাই রাখেননি। এসব পরিস্থিতিতে মানুষ উৎপেতে থাকে। সুযোগ ফেলেই মানুষ তখন মসনদ ধরে টান দিবে। সেই টানে অনেক সফল রাজনৈতিক দলও কালের গর্বে হারিয়ে যায়।

সে ভয়েই আপনারা জ্বিত ভূতের পানি পড়া খেতে চাইতেছেন। কিন্ত সেই পানি পড়া আপনাদের রক্ষা করতে পারবেনা । সহজ পথে আসেন। তাহলে ভয় দূর হবে চিরতরে।

সংস্কৃতি হলো একটি জাতির শিকড়। সেই শিকড় ধরে টান দিলে বাঙ্গালী বসে থাকবেনা। মনে রাখবেন, আমরা সেই জাতি–যারা সংস্কৃতির জন্যে, জাতীয়তার জন্যে, অধিকারের জন্যে, বায়ান্নতে প্রাণ দিয়েছি অকাতরে, একাত্তরে প্রাণ দিয়েছি ঝাঁকে ঝাঁকে, পঁচাত্তরে প্রাণ দিয়েছি সপরিবারে। তবুও দমে যায়নি। এবারও যাবোনা ইনশাআল্লাহ…

লেখক :: গোলাম সারোয়ার
সাংবাদিক ও কলামিষ্ট

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে