ঘূর্ণিঝড় নাড়ার প্রভাবে নোয়াখালীতে প্রচুর গবাদিপশুর মৃত্যু

0
123

সূবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি :: বিভিন্ন সময়ে ঝড়-তুফান হয়েছে। নদীর স্রোতে অনেক গবাদিপশু ভেসে  গেছে। কিন্তু এক সঙ্গে এতো গরু, মহিষ ও ভেড়া  নষ্ট হতে কখনো দেখিনি। যেগুলো মারা গেছে তা তো গেছে, কিন্তু বাকি যেগুলো আছে তার অনেকই এখন নানা রোগে আক্রান্ত। নিম্নচাপের প্রভাবে গত শুক্রবার থেকে রোববার টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে ও ঠাণ্ডায় এমনটা হয়েছে। গত ৩০ বছর ধরে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার জাহাজ্জার চরে বাতাইন্যা বা রাখালের কাজ করা সফি মিয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথাগুলো বলেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা  জাহাজ্জার চরের কয়েক মাইলজুড়ে মরে পড়ে আছে প্রচুর গরু। ৫ থেকে ৬ দিন ধরে পড়ে থাকা এসব পশু থেকে এরই মধ্যে পচা গন্ধ বের হতে শুরু করেছে। পানিতেও ভাসছে অনেক পশু। কিন্তু এখনো যেসব পশু জীবিত আছে, তার অনেকই নানা রোগে আক্রান্ত।

আট বছর ধরে বাতাইন্যার কাজ করা রহমত বলেন, প্রতি বছর কোনো না কোনো সময় ঝড়-তুফান আসে আবার চলে যায়। কিন্তু এবার যে কী হলো। দিনে-রাতে তিন দিন ধরে বৃষ্টি আবার ঠাণ্ডার কারণে পশুগুলো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন রকমের ওষুধ খাওয়ানোর পর পশুগুলো মরে গেছে। এগুলো থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। বাকিগুলোর আবার কী হয় বুঝে উঠতে পারছি না।

বেশ কয়েকটি পশু মরে যাওয়ার পর জাহাজ্জার চরে ছুটে এসেছেন সুবর্ণচর থেকে নুর নবী আজাদ। তিনি জানান, বাপ-দাদারা সবাই এ চরে পশু পালন করেছেন। তিনিও করছেন। এখানে পশু পালন করার প্রধান সুবিধা হলো, গরুর জন্য বাড়তি কোনো খাবার কিনতে হয় না। চরের বুকে জেগে ওঠা কচি ঘাসগুলো খেয়ে এরা বড় হয়। শুধু বাতইন্যা ও ওষুধ খরচ যায়। তবে ঝড়-তুফান এলে একটু অসুবিধা হয়। অনেক সময় স্রোতের সঙ্গে পশুগুলো ভেসে যায় এবং অনেক মারা যায়। গত মে মাসে ও ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর সময় জাহাজ্জার চর থেকে অনেক পশু জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে। সে সময় নদীর পানি কয়েক ফুট উপরে উঠে গিয়েছিলো।

তিনি আরো জানান, এ চরে অনেকের মতো তারও ৫ থেকে ৬০০ গরু, ২০০ ভেড়া  ও ১৫০ মহিষ আছে। এর মধ্যে ঝড়ে সব মিলে ৪০টি পশু মারা গেছে। ঝড়-তুফানের সময় এসব চরে উঁচু কেল্লা বা পশু রাখার মতো কোনো শেড না থাকার কারণে এগুলো বৃষ্টিতে ভিজে ও ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।

আরেক পশুমালিক নুর আলম হুক্কা মিয়া জানান, গত তিন ধরে এখান থেকে দুধ নেয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। এ চর থেকে প্রতিদিন শত শত লিটার দুধ সুবর্ণচর উপজেলায় চরবাটায় মিল্ক ভিটায় দেয়া হতো। গোপালেরা সে দুধ নিয়ে যেতো। তিনি দুধ বিক্রি করে যাবতীয় খরচ চালাতেন।

নোয়াখালী উপকূলীয় এলাকা কোম্পানীগঞ্জ, সুবর্ণচর ও হাতিয়ায় জেগে ওঠা  জাহাজ্জারচর, চর নুরুল হক, ঠেংগারচর, জাঙ্গালিয়ার চর, মৌলভীর চর,পাতার চর, উড়ির চরসহ বিভিন্ন চরের গো-চারণ ভূমিতে গত কয়েক বছর ধরে হাজার হাজার গরু, মহিষ  ও ভেড়া পালন করা হয়।

নোয়াখালী প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, সুবর্ণচর, হাতিয়া ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন চরে ঘূর্ণিঝড়ে ৩৪৫টি গরু, ২৬৮টি মহিষ ও ৩৮১টি  ভেড়া মারা গেছে।

নোয়াখালী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবুল কালাম আজাদ জানান,  প্রাথমিকভাবে তিনটি উপজেলায় প্রাণিসম্পদের ক্ষয়ক্ষতির একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। জনবল কম থাকায় সঠিক সময়ে তারা সঠিক কাজটি করতে পারেন না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে