জনতার নেত্রীর জন্মদিন : আগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রাণে-এ জীবন পূর্ণ কর

0
127

গোলাম সারোয়ার (কলাম লেখক) :: তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। একবার নয় তিন তিনবার এবং তাঁর শাসন এখনও বহমান।  তিনি ইতিহাসের এক মহান সিংহ পুরুষের বড় মেয়ে যিনি নিজেও ছিলেন বাংলার প্রধানমন্ত্রী।  তাঁর পিতার অনেক অনেক পরিচয়-বিশেষণ দেওয়া যাবে তবে সবকিছুর উর্ধ্বে বড় পরিচয় হলো, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের স্থপতি।

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালীর মেয়ে তিনি, যে বাঙ্গালীর আঙ্গুলের ইশারায় শত্রুরও কলিজা কাঁপতো ।  তিনি সে পিতার বড় কন্যা যে পিতার গগন বিদারী নিনাদে সমগ্র বিশ্বটা কেঁপেছিলো।  আজো সে নিনাদে সবচেয়ে নিরীহ যুবকটিরও রক্ত জেগে উঠে, হৃৎপিন্ডে পড়ে ঢোলের বাড়ি, হাত হয় মুষ্টিবদ্ধ।

বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য যা কিছু প্রথম তার প্রায় সবই এসেছে তাঁর পিতার হাত ধরে। তিনি একটি বৃক্ষসম জাতিকে দিলেন অনন্ত গতি আর জাতিটি তাঁর দিকনির্দেশনায় ঘুরিয়ে দিলো ইতিহাসের গতিপথটিই। সে পিতারই সন্তান জনগনের নেত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ।

জননেত্রী শেখ হাসিনা জন্মেছিলেন ২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ সালে। তাঁর জন্মের বছরই ব্রিটিসরা ভারত ছেড়ে গিয়েছিলো পৌনে দুু’শ বছর পর।  তার কিছু দিন আগে বন্ধ হয়েছিলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ।  তাঁর জন্মের বছর ভারতমাতা হয়েছিলো দ্বিধাবিভক্ত। তাঁর কাছে বাঙ্গালীর অনেক প্রত্যাশা।

তিনি বাংলাদেশের ১০ম জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় প্রধান, সংসদ নেতা এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী।

পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুবর রহমান এবং মাতা বেগম ফজিলাতুননেসার সংসারে তিনি টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহন করেন এবং সেখানেই বাল্যশিক্ষা নেন। ১৯৫৪ সাল থেকে তিনি ঢাকায় পরিবারের সাথে মোগলটুলির রজনীবোস লেনের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরে মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে উঠেন। ১৯৫৬ সালে তিনি টিকাটুলির নারীশিক্ষা মন্দির বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৬১ সালের ১ অক্টোবর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে থাকা শুরু করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট দানবরা সামরিক অভ্যুত্থান করে তাঁর পরিবারের সকল সদস্যকে হত্যা করেন । বেঁচে যান তিনি ও তাঁর বোন শেখ রেহানা।  তখন দুই বোন পশ্চিম জার্মানিতে। তখনও পৃথিবীতে মানুষ ছিলো কিন্তু এই দুটো অসহায় মেয়ের কেউই ছিলোনা।  তাঁরা দুই বোন ছিলো একে অন্যের সহায়। প্রথম কিছু দিন তাঁরা জানতেনই না তাঁদের পৃথিবী বিন্দু থেকেও ছোট হয়ে গেছে। জানতেন ঐ আকাশের মালিক, যিনি চাইলে বিন্দুকেও মহাবিশ্ব করতে পারেন।  যিনি চাইলে যে কারো পৃথিবীকে প্রশস্ত করে দেন যেমন দিয়েছেন পঁচাত্তরের পনের আগস্টের উক্ত দুই অনাথকে।  যে অনাথকে বর্তমানে কথা বলতে মাটির পৃথিবীর যে কোন রাষ্ট্রকে অন্তত দুই বার চিন্তা করতে হয়, সে অনাথের কেমন লেগেছিলো যখন প্রথম শুনেছিলো তাঁদের কেউ নেই পৃথিবীর বুকে !

১৯৬৫ সাল।  পাক-ভারত যুদ্ধের সময়।  তাঁর পিতার মাথা থেকে ছয়দফা পয়দা হওয়ার একবছর আগের সময়।  তিনি আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। ১৯৭৩ সাল।  স্বাধীন বাংলার তিনি এক উচ্ছল তরুনী, যে বাংলার আকাশ-নক্ষত্র-ভূমি চিরদিনের জন্যে অবাধ স্বাধীন করে দিয়েছেন তাঁর পিতা। সেই সময় সেই স্বাধীন দেশে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ড. আহমদ শরীফ স্যারদের মত শিক্ষকদের কড়া শাসনে থর থর করে কেঁপে কেঁপে আর ক্লাশ করতে হবেনা ভেবে তিনি সেদিন হয়তো আনন্দে আত্মহারাও হয়েছিলেন ! মনে রাখতে হবে তার আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় ১৯৬৭ সালে ড. ওয়াজেদ মিয়ার সাথে তাঁর বিয়ে হয়েছিলো ।

পঁচাত্তরের পনের আগস্ট।  বঙ্গবন্ধুর সংসার তচনচ হয়ে গেছে।  লন্ড ভন্ড হয়ে গেছে বাংলাদেশ। লন্ড ভন্ড হয়ে গেছে দক্ষিন এশিয়ার ইতিহাস।  পরিবর্তিত হয়ে গেছে বিশ্বের প্রতিটি দেশের পররাষ্ট্রনীতির ধারাপাত। সমগ্র পৃথিবীতে একই জল একই পানি সাগরে সাগরে নাচছে আর শেখ হাসিনারা দুই বোনও মহাসমুদ্রে ভাসছে। ভাসতে ভাসতে ১৯৮১। আওয়ামী লীগ সর্বসম্মতিক্রমে শেখ হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতেই দলের সভাপতি নির্বাচিত করলো।  আমি বলবো আওয়ামীলীগ ভবিষ্যতে ভেসে উঠান কীলক ঠিক করলো।  যে কীলক ধরে উঠে দাঁড়াবে বাংলাদেশ । যে কীলক ঠিক করে দিবে বাংলাদেশ,  পঁচাত্তরের পর যে বাংলাদেশে ফকিররা হয়েছে রাজা আর রাজারা হয়েছেন লাঞ্ছিত।

১৯৮২ সাল। বিশ্ব বেহায়ার শাসন চলছে। তিনি হাল ধরে রইলেন অসীম ধৈর্য্য নিয়ে।  ১৯৮৬ সালে তিনি এই অবৈধ ক্ষমতায় আরোহনকারী সামরিক শাসকের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেন । পরবর্তীকালে তিনি এবং তাঁর দল এরশাদ বিরোধী দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুললেন।  ১৯৯০ সালে অভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে এরশাদ সরকারকে ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করলেন । পিতার বড় সন্তান হিসেবে তিনি জানতেন আন্দোলনকে কিভাবে এগিয়ে নিতে হয় ধাপে ধাপে। কারণ বাংলাদেশের ইতিহাসের আঁতুরঘর হলো তাঁদের ড্রয়িংরুম।  তিনি জানতেন কিভাবে এক একটি সিঁড়ি ভেঙ্গে ভেঙ্গে জাতিকে নিয়ে যেতে হয় শিকড় থেকে সর্বোচ্চ শিখরে।

১৯৯১ সালে তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের তৎকালীন বৃহত্তম বিরোধীদল। আওয়ামীলীগের মত দলকে বিরোধী দলের আসনেও বসতে হয় স্বাধীন দেশে!  কত দুঃক্ষে মুক্তিযোদ্ধারা বুক ফেটে মরে! কিন্তু তিনি মেনে নিলেন ।

১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন দল আওয়ামীলীগ তার দেশ বুঝে পেল একুশ বছর পর।   তিনি ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেন । কিন্তু পঁচাত্তর থেকে ছিয়ানব্বই, একুশ বছরে মেঘে মেঘে অনেক বেলা গেছে।  মেঘের আড়ালে অনেক অপপ্রচার ডালপালা ছড়িয়েছে।  তার জেরে ২০০১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বড় ব্যবধানে হেরে যায়। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে পূণরায় তিনি আন্দোলন শুরু করেন নতুন সমস্যা নিয়ে।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় এক জনসভায় বক্তৃতাদানকালে গ্রেনেড হামলা করে তাঁকে হত্যা করতে চাইলো ঘাতকেরা।  কিন্তু সর্বশক্তিমান তাঁকে রক্ষা করলেন। সেদিন তাঁর দেহরক্ষী এবং আওয়ামীলীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন মৃত্যুবরণ করেন ও পাঁচ শতাধিক আহত হন। সেদিন আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা নিচ্ছিদ্র মানব ঢাল সৃষ্টি করে তাঁকে বেষ্টন করে রাখলেন । বিশ্ব আবাক হয়ে দেখলো গ্রেনেডের প্রতিকূলে নেতা-কর্মীদের দেহ, যেন আগে শরীর ছিন্নভিন্ন হলে তাঁদেরই হয় তারপর শেখ হাসিনাকে ছুঁতে পারে। এমনভাবে কোন নেতার জন্যে কোন দেশে কর্মী-নেতারা জীবন পেতে দেয় কিনা আমরা তা জানিনা।

২০০৭ সালের ১৬ জুলাই সকাল ৭:৩১-এ যৌথ বাহিনী শেখ হাসিনাকে তাঁর বাসভবন ‘সুধা সদন’ থেকে গ্রেফতার করে। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনকে সাব-জেল হিসেবে ঘোষণা করে সেখানে অন্তরীণ রাখা হয়। গ্রেফতারের পূর্বে শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা জিল্লুর রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে যান। জেল থেকে মুক্তিলাভের পরে তিনি চিকিৎসার জন্যে কয়েক মাস বিদেশে অবস্থান করেন। তারপর দেশে ফিরে দলের হাল ধরেন এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেন।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন মহাজোট প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আসনে জয়লাভ করে। বিজয়ী হয়ে সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে তিনি জানুয়ারি ৬ , ২০০৯ -এ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তাঁর দল আওয়ামীলীগ এই নির্বাচনে ২৬০টি আসন লাভ করে। অপরদিকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি পায় ৩২টি আসন। বর্তমানে তিনি দশম সংসদেরও সংসদ নেতা এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

তিনি ২০১১ সালে বিশ্বের সেরা প্রভাবশালী নারী নেতাদের তালিকায় ৭ম স্থানে রইলেন। ২০১০ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমস সাময়িকীর অনলাইন জরীপে তিনি বিশ্বের সেরা দশ ক্ষমতাধর নারীদের মধ্যে ৬ষ্ঠ স্থানে ছিলেন। ঐ সময় তিনি জার্মানির বর্তমান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের ঠিক পিছনে ছিলেন।

শেখ হাসিনাকে ১৯৯৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি ডক্টর অব ল’ডিগ্রি প্রদান করেন। জাপানের ওয়াসেদা ইউনিভার্সিটি ১৯৯৭ সালে ৪ জুলাই তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টর অব ল’ ডিগ্রিতে ভূষিত করেন। ইউনিভার্সিটি অব লিবারটি এবং যুক্তরাজ্যের ডানডি ইউনিভার্সিটি ১৯৯৭ সালে তাঁকে ‘‘ফিলসফি ইন লিবারেল আর্টস’’-এ সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেন।

১৯৯১ সালের ২৮ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের ‘‘বিশ্ব ভারতী’’ তাঁকে দেশিকোত্তম’’ সম্মানে ভূষিত করেন। দেশ ও সমাজে শান্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদানের কারণে অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ১৯৯৯ সালের ২০ অক্টোবর ডক্টর অব ল’ডিগ্রি প্রদান করেন ।

শান্তি, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার তরে তাঁর অসাধারণ অবদানের জন্যে ব্রাসেলসের বিশ্ববিখ্যাত ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি তাঁকে ২০০০ সালে ৪ঠা ফেব্রুয়ারি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেন। ২০০০ সালে ৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিজপোর্ট ইউনিভার্সিটি শেখ হাসিনাকে মানবাধিকার বিষয়ে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেন। পার্বত্য চট্রগ্রামে সুদীর্ঘ ২৫ বছরের গৃহযুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার অবদান অসামান্য।  এই শান্তি প্রক্রিয়ায় তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ১৯৯৮ সালে ইউনেসকো তাঁকে “ হফোয়েট-বোজনি” (Houphouet-Boigny) শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করেন। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসিকতা, ও দূরদর্শিতার জন্যে যুক্তরাষ্ট্রের রানডলপ ম্যাকন উওমেনস কলেজ ২০০০ সালের ৯ এপ্রিলে মর্যাদাসূচক “Pearl S. Buck`99” পুরস্কারে ভূষিত করেন। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি তাঁর ক্ষুধার বিরুদ্ধে আন্দোলনের অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তাঁকে সম্মানজনক সেরেস্ (CERES) মেডেল প্রদান করেন। সর্বভারতীয় শান্তিসংঘ তাঁকে ১৯৯৮ সালে ‘‘মাদার তেরেসা’’ পদক প্রদান করে। বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও গণতন্ত্র প্রসারে তাঁর অবদানের জন্য নরওয়ের অসলোতে অবস্থিত মহাত্মা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ফাউন্ডেশন শেখ হাসিনাকে ‘‘গান্ধী পদক’’ প্রদান করেন। ১৯৯৮ সালে আন্তর্জাতিক রোটারি ফাউন্ডেশন শেখ হাসিনাকে Paul Haris ফেলোশিপ প্রদান করেন। আন্তর্জাতিক লায়নস ক্লাব তাঁকে ১৯৯৬-১৯৯৭ সালে ‘‘Medal of Distinction’’ পদক ও ১৯৯৬ -৯৭ সালে ‘‘Head of State’’ পদক প্রদান করেন। বৃটেন তাঁকে গ্লোবাল ডাইভারসিটি পুরস্কার প্রদান করেন । ৩০ ডিসেম্বর, ২০১১ সালে তাঁকে বাংলা ভাষার ধারক ও বাহক হিসেবে বাংলা একাডেমি তাদের বার্ষিক সাধারণ সভায় সম্মানসূচক ফেলোশিপ প্রদান করেন। ১২ জানুয়ারি, ২০১২ইং তারিখে দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি এবং উন্নয়নে অনন্য অবদানের জন্য ভারতের ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে ডক্টর অব লিটারেচার বা ডি-লিট ডিগ্রী প্রদান করেন। ২০১৪ সালে সমুদ্রসীমা জয়ের জন্যসহ মোট দুই বার তিনি সাউথ সাউথ পুরস্কার লাভ করেন ৷
২০১৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ ৭০তম অধিবেশনে পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার চ্যাম্পিয়নস অব দ্যা আর্থ পুরস্কার লাভ করেন ৷ তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার লাভ করেন ৷ প্রকৃত পক্ষে তাঁর অবদান ও অর্জন এই স্বল্প পরিসরে লিখে শেষ করা যাবে না। তাঁর লিখা গ্রন্থগুলি হৃদয় স্পর্শী।  সেগুলো হলো, ওরা টোকাই কেন?,  বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম, দারিদ্র্য বিমোচন, কিছু ভাবনা, আমার স্বপ্ন-আমার সংগ্রাম,  আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি, সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র।

তাঁর স্বামী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম ওয়াজেদ মিয়া ৯ মে ২০০৯ তারিখে ইন্তেকাল করেন। শেখ হাসিনার জ্যেষ্ঠ পুত্র সজীব ওয়াজেদ একজন তথ্য প্রযুক্তি বিশারদ। তাঁর একমাত্র কন্যা সায়মা হোসেন ওয়াজেদ একজন মনোবিজ্ঞানী এবং তিনি অটিস্টিক শিশুদের উন্নয়নে কাজ করছেন। শেখ হাসিনার নাতি-নাতনীর সংখ্যা পাঁচ জন। তিনি নিমতলীর আগুনে সর্বশ্ব হারানো তিন কন্যারও দত্তক মাতা।  বাংলাদেশের অনেক কিছুরই দত্তক তিনি।

আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন থেকে নিভীড় পর্যবেক্ষনে দেখে এসেছি তিনি সমগ্র বাংলাকে কতটা ধারন করেছেন।  কি পরিমান মমতা নিয়ে তিনি দেশটাকে ভালোবাসেন তা অপপ্রচারের বলয়ে থেকে বোঝা যাবেনা।  আমরা যারা অভিমানে বলি কি পেলাম!  তাঁদেরকে বলবো প্রিয় বাংলাদেশকে এখনও যে সকালে উঠে যথাযথ দেখি শুধু একারণেই তাঁকে বিমম্র শ্রদ্ধায় ভালোবাসা যায়। তবুও জনতার প্রিয় নেত্রীকে বলবো স্বপ্নের বাংলাদেশ এখনও মাঝ পথে।  এখনও ন্যায় বিচারের পথে অনেক বাঁধা।  আপনি যে বলেছেন, মরার আগে মরতে চান না, আমরা সে কথার উপর আস্থা রাখী।

এই মহান মানুষটির আজকে ২৮ সেপ্টেম্বর জন্ম দিবস। কাল সব্যসাচী লেখক-কবি সৈয়দ শাসসুল হকের মহাপ্রয়ানের দ্রোহে তিনি আজ তাঁর জন্মদিন উৎযাপন করতে বারন করেছেন।  ।  আমরা চাই তাঁর জন্ম দিন শুভ হোক- তাঁর জীবন হোক দীপ্তিময়।

 

গোলাম সারোয়ার
কলাম লেখক।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে