তিস্তা ছাড়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নয় : ঐতিহাসিক দুর্ঘটনা যেন না ঘটে

0
113
https://www.noakhalitimes.com

গোলাম সারোয়ার :: বিশ্ববিজ্ঞরা ইদানিং বলে থাকেন, দিল্লীর সাথে ঢাকার সম্পর্কের রসায়ন এখন অসম্ভব ঘনিষ্ঠ । কিন্তু দীর্ঘ প্রতীক্ষিত তিস্তার প্রশ্নে যখন দিল্লি হাইকোর্ট দেখানোর মতো মমতাকে দেখায় তখন আমাদের মনে হয় না, সম্পর্ক আদতে নিবিড় ! দিল্লিকে বুঝতে হবে ভালোবাসায় গেইম থিউরি খাটেনা। ভালোবাসা মানে হলো নিজেকে সমর্পণ করা শর্তহীনে, পৃথিবীর যে কোন স্বার্থের উর্ধ্বে তাকে তুলে ধরা। যেহেতু রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্বার্থ শর্ত থাকেই সুতরাং এখানে ভালোবাসা বন্টিত হতে হবে ন্যানোমিটার মেপে মেপে। দর্জির মতো এ যুগে গিরায় মাপার সুযোগ নেই, তা ঢাকাকেও বুঝতে হবে।

আর আইন কানুন, সভ্যতা, বভ্যতা না মানা মমতাকে বুঝতে হবে, কথা হবে ঢাকার সাথে দিল্লির। মাঝ পথে অনিবার্য প্রতিবেশী হিসেবে আপনি বড়জোর অনুসঙ্গ ।

ঢাকার মর্যাদা দিল্লি, ওয়াশিংটন, মস্কো কিংবা বেইজিংয়ের সমান। সে মর্যাদা আপনি ভোগ করতে হলে আপনাকে মুক্তিযুদ্ধ নামক একটি মহাজাগতিক সমুদ্রে ডুব দিতে হবে। সে সমুদ্রে ডুব দেওয়ার জন্যে পরিমিত কোমরের জোর পৃথিবীর বহুজাতির নেই। ঢাকার মর্যাদা বুঝতে হলে আপনাকে পড়াশুনা করতে হবে । কিন্তু সেসব তো আপনি করেনই না উপরন্তু আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে আপনি আমাদের দেশের দুষ্কৃতিকারীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেন। অথচ আমরা সেভেন সিস্টার্সের সকল দুষ্কৃতিকারীদের পেলে ডান্ডাবেড়ী পরাই।

বাংলাদেশের কর্তা ব্যক্তিদের স্মরণে রাখতে হবে, তিস্তার জল, গঙ্গার ইজ্জতসহ সকল অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনা, সীমান্ত হত্যা, বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং মাইন্ড সেট ব্যাপারগুলোতে সমতার অভাব পরিলক্ষিত হলে সামরিক সহযোগিতা চুক্তিতে আমাদের সায় নেই। কর্তা ব্যক্তিরা যদি মনে করেন, জনগণের সায় থাকার কোন তোয়াক্কা করার দরকার নেই, তবে আপনারা আপনাদের দায়িত্বে চুক্তি সম্পাদন করবেন। যদি ঐতিহাসিক সঙ্কট দেখা দেয় তবে কালের নিয়মে রাষ্ট্র আপনাদেরও আইনের আওতায় আনবে । আমরা মনে রাখবো, আমাদের সাবমেরিন দেখে দাদারা মনস্তাতাত্ত্বিক সমস্যায় ভুগতেছে। সে জন্যে এই পথে ভারতের বহু আগ্রহ। তবে সামরিক সহযোগিতায় উভয়ের লাভ, যদি তা সমতার ভিত্তিতে হয়।

রাষ্ট্রকে স্মরণ করিয়ে দিলাম, নেপালের সঙ্গে এই ধরণের চুক্তির ফলে, ভারতকে না জানিয়ে নেপাল চীনের কাছ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে গেলে দাদারা বাধা দিয়েছিলো । সুতরাং পররাষ্ট্র এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্তাদের ব্যাপক পড়ে বুঝে চুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে। বউ শালী নিয়ে তাজমহল মুম্বাই ঘুরেফিরে তাঁরা যেন সময় ক্ষয় না করেন।

সামরিক সাহযোগিতা উভয়ের দরকার। কিন্তু ভারতকে বুঝতে হবে বন্ধু ছাড়া লাইফ বরবাদ। নিকটতম প্রতিবেশী এবং জন্মের পরম বন্ধু হিসেবে বাংলাদেশ ভারতের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করে। কিন্তু প্রতিদানে বাংলাদেশ ভারতের ভালোবাসা কেমন পায় তা সীমান্তে লাশের মিছিল আর গঙ্গা, তিস্তার শাসিত জলই বলে দেয় অবিরাম।

সুতরাং আমাদের একটু রয়ে সহে এগুতে হবে।

লেখক : গোলাম সারোয়ার
সাংবাদিক ও কলামিষ্ট

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে