নোয়াখালীতে সংবর্ধিত ওবায়দুল কাদের

0
124

নোয়াখালী সংবাদদাতা :: সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় আজ শনিবার বিকেলে তার নিজ জেলা নোয়াখালীতে লাখো জনতার সিক্ত ভালবাসায় সংবর্ধিত হয়েছেন। নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি ওবায়দুল কাদেরকে সংবর্ধিত করেন নোয়াখালীবাসী। এসময় লাখো মানুষের করতালিতে মুখরিত হয় সভাস্থলসহ পুরো মাইজদী শহর।

সকাল থেকে সদর, সুবর্ণচর, হাতিয়া, কোম্পানীগঞ্জ কবির হাট, সেনবাগ, বেগমগঞ্জ, চাটখিল, সোনাইমুড়ীসহ বৃহত্তর নোয়াখালীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মানুষ দলে দলে ওবায়দুল কাদেরের প্লে কার্ড হাতে নিয়ে সভাস্থল জিলা স্কুল মাঠে সমবেত হন। বেলা ১২টার পর থেকে মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে মাইজদী প্রধান সড়ক লোকে লোকারণ্য হয়ে লাখো জনতার জনসমূদ্রে পরিণত হয়। এ সময় নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর নামেও প্লেকার্ড হাতে নিয়ে হাজার হাজার নেতা কর্মী স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে সমবেত হন। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের জনসভাকে সফল করার জন্য গত সপ্তাহ থেকে একরামুল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ দলীয় নেতা কর্মীরা ব্যাপক কাজ করেছেন।

একরামুল করিম চৌধুরী এমপি নোয়াখালীবাসীর পক্ষে উন্নয়নের জন্য মন্ত্রীর নিকট দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। নোয়াখালী খালসহ বিভিন্ন খাল সংস্কারের জন্য ৩২৪ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন, সোনাপুর থেকে জরালগঞ্জ পর্যন্ত সড়ক ব্যবস্থা, বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা থেকে সোনাপুর পর্যন্ত ফোর লেন সড়ক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন এমপি একরামুল করিম চৌধুরী।

জনসভায় আওয়ামী  লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দুই বছর পর নির্বাচন। ঘর গোঁছাতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, কোন্দল মিটিয়ে ফেলতে হবে। দল করলে দলের নিয়ম শৃঙ্খলা মানতে হবে। তা নাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। নীতির প্রশ্নে কাইকে ছাড় দেয়া হবে না। দলে বিশৃঙ্খলাকারীদের বসন্তের কোকিল, অতিথি পাখি আখ্যা দিয়ে তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংশোধন হয়ে যান তা না হলে খবর আছে।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমাকে খুশি করার দরকার নেই। মানুষকে খুশি করুন। আচার আচরণ ঠিক করুন। দশটি উন্নয়ন কাজ একটি খারাপ আচরণের কারণে যেন ম্লান হয়ে যেতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। একজন রাজনীতিকের সবচেয়ে বড় সম্পদ মানুষের ভালোবাসা।  যে নেতা মানুষের চোখের ভাষা, মনের ভাষা বুঝে না তার রাজনীতি করা ঠিক নয়।

নিজ জেলায় তাকে দেয়া সংবর্ধনার জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, মানুষের যে ভালোবাসা আমি পেয়েছি তার চেয়ে বড় আর কোনো সংবর্ধনা হতে পারে না।

বিকেল ৩টায় নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিমের সভাপতিত্বে জিলা স্কুল মাঠে এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সময় তিনি যখন সভাস্থলে আসেন লাখো জনতা করতালির মাধ্যমে তাকে বরণ করে নেয়া হয় এবং কবির হাট উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুন নাহার শিউলিসহ দলের নেতাকর্মীরা মন্ত্রীকে ফুলের তোড়া দিয়ে সংবর্ধনা জানান।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুুব উল আলম হানিফ এমপি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামূল হক শামীম, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী এমপি, আবদুর রহমান এমপি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি ফরিদুর নাহার লাইলী, বিএম মোজ্জাম্মেল হক এমপি, খালেদ মাহমুদ এমপি, হারুনুর রশিদ, অসিম কুমার উকিল, মির্জা আজম এমপি,  এইচএম ইব্রাহীম এমপি, মোর্শেদ আলম এমপি, আয়েশা ফেরদৌস এমপি, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ও জেলা আওয়ামী লীগ সহ সভাপতি বিশিষ্ট শিল্প পতি মিনহাজ আহমেদ জাবেদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক ড. জাফর উল্যাহ, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শামছুদ্দিন জেহান, আবদুল মমিন বিএসসি, মাওলা লিটন, নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহীদ উল্যাহ খান সোহেল, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ পিন্টুসহ অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবদুল মালেক উকিলের পর দীর্ঘ ৩৮ বছর পর এ প্রথম ওবায়দুল কাদের নোয়াখালী থেকে দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে