পুলিশ সদস্য শের আলীর কান্না, কাঁদাচ্ছে সারাদেশকে

0
110

নিউজ ডেস্ক ::  একজন পুলিশ সদস্যের কান্না কাঁদাচ্ছে পুরো দেশকে। পুলিশ সদস্যের মানবিকতা সোশাল মিডিয়ার মানুষদের ব্যাপকভাবে নাড়া দিয়েছে। শের আলী নামের এই পুলিশ সদস্যের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম সহ সোশাল মিডিয়ার বিভিন্ন স্থানে। আসলে কী হয়েছিল?

https://www.noakhalitimes.com/কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামু উপজেলার পানিরছড়া এলাকায় ১১ ডিসেম্বর যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে বাসের নিচে অন্যান্য যাত্রীদের সাথে তিন ঘণ্টা চাপা পড়ে থাকে ছোট্ট একটি শিশু। অনেক চেষ্টার পর সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় রক্তাক্ত শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালের নেওয়ার জন্য দৌঁড়ানো শুরু করে দেন স্থানীয় বাসিন্দা পুলিশ সদস্য শের আলী।

অপরিচিত এই শিশুটির জন্য তখন চিৎকার করে কাঁদতে থাকেন চট্টগ্রাম ডিবি পুলিশে কর্মরত শের আলী। শের আলীর কান্না দেখে উপস্থিত হাজার হাজার জনতাও তখন চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।

চট্টগ্রামে কর্মরত শের আলী তিন দিনের ছুটি নিয়ে রোববার দুপুরের খানিক আগে রামুর রশিদ নগরে নিজের বাড়িতে পৌঁছেছিলেন। দুই সন্তানকে নিয়ে দুপুরে খাবার খাওয়ার সময় দুর্ঘটনার খবর শোনেন তিনি।

শের আলী বলেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে বাড়ি খুব কাছে হওয়ায় তিনি কয়েকজন প্রতিবেশীকে নিয়ে উদ্ধার কাজে নেমে পড়েন। একে একে ছয়জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান শের আলী। প্রায় তিন ঘণ্টা পর বাসের ভেতরে ব্যাগ রাখার জায়গায় এক শিশুকে আটকে থাকতে দেখেন তিনি।

“ব্যাগ রাখার স্থানে শিশুটির মাথা থেকে চোখ পর্যন্ত আটকে ছিল। সেটি ফাঁক করে মেয়েটিকে উদ্ধার করার পর সে আমাকে ‘আব্বা’ বলে পানি খেতে চায়।” শের আলীর নিজের মেয়েটিও একই বয়সী। তখন আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই পুলিশ সদস‌্য।শের আলী পরে জানতে পারেন, শিশুটির নাম উম্মে হাবিবা।

শিশুটির চোখে ও মাথায় আঘাত লেগেছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। রোববার দুপুরে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামু উপজেলার রশিদ নগর ইউনিয়নের পানিরছড়া এলাকায় বাস উল্টে নিহত হন চারজন, আহত হন অন্তত ২৩ জন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে