প্রধানমন্ত্রী খালি হাতে ফিরেছেন : খালেদা

0
126

নিউজ ডেস্ক :: বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ভারত সফর শেষে প্রধানমন্ত্রীকে কতগুলো আশ্বাস নিয়ে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, অতীতের ধারাবাহিকতায় ভারতের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত এবং প্রস্তাবিত বিষয়গুলোতেই কেবল অনেকগুলো চুক্তি ও সমঝোতা সই করা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

আজ বুধবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল মঙ্গলবার ভারত সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। এরপর আজ খালেদা জিয়ার এ সংবাদ সম্মেলন।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘এই সফরকে দেশবাসী কেবলই দেওয়ার এবং কোনো কিছুই না পাওয়ার এক চরম ব্যর্থ সফর বলেই মনে করে।’ গতকাল প্রধানমন্ত্রী এ সফরকে ফলপ্রসূ বলে মন্তব্য করেছিলেন।

খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা, গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্প, সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার মতো বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোতে এই সফরে কোনো অগ্রগতি হয়নি। জনগণের দাবি সত্ত্বেও সুন্দরবনবিনাশী এবং পরিবেশ-বিধ্বংসী রামপাল কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থান পরিবর্তনের জন্য প্রধানমন্ত্রী একটি কথাও বলেননি।

ক্ষমতাসীন সরকার ভারতের সঙ্গে কোনো চুক্তি বা সমঝোতার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ করতে পারেনি বা করেনি বলে দাবি করেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ‘তারা কেবল কৃতজ্ঞতার ঋণই ক্রমাগত শোধ করে চলেছে। এতে বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা। খর্ব হয়েছে আমাদের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব।’

বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, শেখ হাসিনা এই সফরে তৃপ্ত হলেও বাংলাদেশের জনগণ এই সফরের ফলাফলে তৃপ্ত নয়, বরং আতঙ্কিত। তারা জাতীয় স্বার্থবিরোধী একগাদা চুক্তি ও সমঝোতা চায়নি। হিসাবের পাওনা চেয়েছে।

প্রতিরক্ষা চুক্তি
এই সফরে করা প্রতিরক্ষাবিষয়ক চুক্তির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে ভারতের সামরিক পরিকল্পনার অংশ করে এসেছেন বলে মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া। এই চুক্তি বা সমঝোতা না করার ব্যাপারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুধীসমাজ ও সচেতন নাগরিকের আপত্তির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘…তা সত্ত্বেও জনসাধারণের মতামতকে উপেক্ষা করে এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই করা হয়েছে। এর সুদূরপ্রসারী বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে বলে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে আমরাও শঙ্কিত।’

পানির প্রসঙ্গে বিএনপি নেত্রী বলেন, ‘ভাটির দেশ হিসেবে সব আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আমাদের অধিকার। এটা কারও কোনো দয়া-দা‌ক্ষিণ্য বা করুণার বিষয় নয়। তিস্তার পানি বণ্টনের বিষয়টি দুই সার্বভৌম দেশের মধ্যকার বিষয়। এ জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকেই বিষয়টি ফয়সালা করতে হবে। তৃতীয় পক্ষ হিসেবে ভারতের একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে দুই দেশের মধ্যকার আলোচনায় সংশ্লিষ্ট করায় বাংলাদেশের সার্বভৌম মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে।

খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আপ্যায়নের চেয়ে তাদের ন্যায্য পাওনা কী এসেছে, সেটা জানতে চায়। সেটা চুক্তি বা সমঝোতা স্মারকের সংখ্যা ও বন্ধুত্বের কথামালার ওপর নির্ভর করে না। দুর্ভাগ্যের বিষয়, এসব জমকালো আনুষ্ঠানিকতার আড়ালে বাংলাদেশ যে বঞ্চিত ছিল, সেই বঞ্চিতই থেকে গেল। বাংলাদেশ আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলো।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে