ফুলগাজী সীমান্তে মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় নিহত আনসার সদস্যের লাশ হস্তান্তর

0
121
https://www.noakhalitimes.com

ফেনী সংবাদদাতা :: ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার মুন্সিরহাট হাট ইউনিয়নের ভারতীয় সীমান্তবর্তী বদরপুর গ্রাম এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় নিহত আনসার সদস্য মো. মীর নওশাদ আলীর (৫২) লাশ বিজিবির সাথে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরকক্ষী বাহিনী। বৃহস্পতিবার বিকেলে বদরপুর সীমান্তদিয়ে লাশটি হস্তান্তর করা হয়।

ফেনীস্থ ৪ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এম আশরাফ আলী পিপিএম, পিডিজিএম জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভারতীয় সীমান্তের বদরপুর অংশে বিজিবি ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পতাকা বৈঠক শেষে বিএসএফ ৮৬ ব্যাটালিয়নের কোম্পানী অধিনায়ক শ্রী সুরেন্দ্র কুমার নিহত আনসার সদস্য মো. মীর নওশাদ আলীর লাশ বিজিবি’র কাছে হস্তান্তর করে। বিজিবি নিহতের লাশ গ্রহণ করে ফুলগাজী থানা পুলিশে হস্তান্তর করেছে।

এদিকে বিএসএফ’র হাতে আটক অপর বাংলাদেশী যুবক (পুলিশের সোর্স বলে পরিচিত) সুমনকে বিএসএফ সদস্যরা ফেরত দেয়নি। ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশ, বাংলাদেশী আনসার সদস্য নিহত ও অস্ত্র জব্দের ঘটনায় ওই দেশের সীমান্তবর্তী থানায় সুমনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে ভারতীয় পুলিশ। নিহত আনসার সদস্যের অস্ত্র ও গুলি বিএসএফ জব্দ করেছে। এদিকে থানায় হস্তান্তরকৃত লাশের পরবর্তী অবস্থা ও মামলা বিষয়ে জানতে ফুলগাজী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মোর্শেদকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি তা গ্রহণ (রিসিভ) করেননি।

ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিসিঞ্জার চাকমা জানান, বুধবার রাত নয়টায় উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গ্রামের বদরপুর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়। এতে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সোহেল রানার সঙ্গে পুলিশ ও ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যরা ছিলেন। অভিযানের একপর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা খানাবাড়িতে আশ্রয় নেন। ভ্রাম্যমান আদালত ওই স্থানে অভিযান চালাতে গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের উপর অতর্কিতে হামলা চালায়। মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় আনসারের ল্যান্সনায়েক মো. মীর নওশাদ আলী নিহত হন এবং তাঁর অস্ত্রও কেড়ে নেওয়া হয়। এসময় ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা এগিয়ে গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা তাঁকেও কুপিয়ে আহত করে। তার সাথে থাকা সোর্স সুমনকে মারধর করে জোরপূর্বক অপহরণ করে ভারতের দিকে নিয়ে যান। এ সময় পুলিশ ১৪টি গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

আহত ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানাকে প্রথমে ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ফেনী জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। খবর পেয়ে মধ্যরাতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে