ফেনীতে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার

0
127

ফেনী সংবাদদাতা :: ফেনী শহরের পশ্চিম উকিল পাড়ায় বক্তেয়ার ভূঞার বাড়ির একটি ফ্ল্যাট থেকে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওই তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন-মা মর্জিনা আক্তার মুক্তা (২৭), তার শিশুপুত্র মহিন মাহমুদ (৩) ও মেয়ে তাসলিম মাহমুদ মাহিন (৮)। শিশু মাহিন ফেনী সেন্ট্রাল প্রাইমারি স্কুলের ৩য় শ্রেণির ছাত্রী ।

স্বজনরা জানায়, গত কয়েকদিন ধরে ইতালী প্রবাসী তারেক মাহমুদের সাথে তার স্ত্রী মুক্তার টেলিফোনে বিবাদ চলছিল। সোমবার বিকেলেও কয়েক দফা ফোনে বাকবিতণ্ডা হয়। সন্ধ্যায় তারেক তার শ্যালক মাসুদকে জানায়, তোমার বোনের সাথে আমার ফোনে কথা কাটাকাটি হয়েছে। এখন সে ফোন ধরছে না। তুমি গিয়ে একটু দেখে এস। এ সময় মাসুদ বাসায় গিয়ে দেখেন, বিছানায় মুক্তা উপুড় হয়ে আছেন, পাশে দুই ছেলে-মেয়েও যেন ঘুমিয়ে আছে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। পরে জানলায় বাঁশ ঢুকিয়ে দরজা খুলে দেখা যায়, তিনজনের মরদেহ পড়ে আছে। এ সময় তাদের মধ্যে মুক্তার গলায় গামছা ও অপর দুজনের গলায় দড়ি পেঁচানো ছিল।

এ ব্যাপারে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদ খাঁন চৌধুরি জানান, পুলিশ লাশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে একে আত্মহত্যা বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে মরদেহের ময়নাতদন্তের পর এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে বলা যাবে।  ওসি আরো জানান, এ ব্যাপারে ক্লু উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। কী কারণে ঘটনাটি ঘটল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জানা গেছে, প্রবাসী তারেকের বাড়ি সোনাগাজী এলাকায়। এক মাস আগে উকিল পাড়ার আব্দুর রউফের ভবনে তারা বাসা ভাড়া নেন। আব্দুর রউফ সম্পর্কে মুক্তার মামা ছিলেন। মুক্তার আরেক ভাই আজিজুল হক সুজনও ব্যবসা করেন।  তবে, তারা এ ঘটনায় কোন মন্তব্য করছেন না। তারা বলছেন, পুলিশ তদন্ত করে বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে