ফেনীতে জনশক্তি রপ্তানী অফিসে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি

0
106

ফেনী সংবাদদাতা :: ফেনীতে জনশক্তি রপ্তানী অফিসে ফিঙ্গার প্রিন্টের নামে হয়রানি করে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়েছে উপ-পরিচালকের নের্তৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। টাকা দিতে অপরগতা প্রকাশ করলে নানা ভাবে হয়রানি করে বিদেশগামী অসংখ্য নারী পুরুষদের। সেবাভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধানী সংবাদ সংগ্রহে গেলে উপ-পরিচালক নিজাম উদ্দিনের নির্দেশে দৈনিক যুগান্তর প্রতিনিধিকে লাঞ্চিত করে তার ক্যাডার বাহিনী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিদেশগামী নারী পুরুষদের ভোগান্তী কমাতে জেলা জনশক্তি রপ্তানী অধিদপ্তরে ম্যান পাওয়ার ফিঙ্গার প্রিন্ট চালু করে। তারই অংশ হিসেবে ফেনী শহরের নাজির রোডস্থ একটি ভাড়া বাসায় ফিঙ্গার প্রিন্ট কার্যক্রম শুরু করে জনশক্তি অফিস। এ অফিসে প্রতিদিন ৩শ’ থেকে ৫শ’  নারী-পুরুষ ফিঙ্গার প্রিন্টের জন্য আসেন। ফেনীতে ফিঙ্গার প্রিন্ট চালু হওয়ার পর থেকে উপ-পরিচালক স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসীদের নিয়ে অফিসটি পরিচালনা করেন। অফিসের বাইরেও টেবিল দিয়ে ফরম পুরণের নামে মোটা অংঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয় এ চক্র। কর্মকর্তার অনুপস্থিতি, সার্ভার সমস্যাসহ নানা অজুহাত দেখিয়ে সরকারী ফি ২৩৫টাকা ব্যাংকে জমা দেয়ার পর আরো ২ থেকে ৫ হাজার টাকা গুনতে হয় বিদেশগামীদের। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে নানা ভাবে হয়রানি হতে হয় সেবাভোগীদের। দিনের পর দিন ঘুরেও প্রিঙ্গার প্রিন্ট দিতে ব্যর্থ হয়ে পরে দালালদের দাবিকৃত চাঁদা দিতে বাধ্য হয়। এখানে দালালের সাথে চুক্তি না হলে কারো ফিঙ্গারপ্রিন্ট হয় না বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

আজ বৃহস্পতিবার দুপরে কয়েকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংবাদ সংগ্রহে ওই অফিসে যান যুগান্তরের ফেনী প্রতিনিধি যতন মজুমদার। নাম-পরিচয় গোপন রেখে দীর্ঘ সময় অফিস কম্পাউন্ডে অবস্থান করে ভুক্তভোগী ও দালালদের কাছ থেকে হয়রানি ও চাঁদাবাজির নানা তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে উপ-পরিচালক নিজাম উদ্দিনের কাছে পরিচয় দিয়ে জানতে চাইলে  তিনি স্থানীয় কমিশনার সিরাজুল ইসলাম অফিসের আশপাশে এসব লোক বসিয়েছে বলে জানান। কথা বলার এক পর্যায়ে নানা ভাবে ম্যানেজ করতে চেষ্ট করেন। ব্যর্থ হয়ে নিজাম উদ্দিনের ইশারায় কম্পিউটার অপারেটর নাদিম, নিরব, অয়ন, জিসান বহিরাগত বাবু, হাসানসহ বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী যতন মজুমদারের উপর হামলা করে। পরে গালমন্দ করে টেনে হিঁছড়ে তাকে অফিস কক্ষ থেকে বের করে দেয়। নিজাম উদ্দিন অপারেটর জিসানকে সাংবাদিকের সঙ্গে থাকা মোবাইল ও ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে সব রেখে দেয়ার নির্দেশ দেয়। এসময় তারা ব্যাগ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়।

পরে বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম সিরাজকে অবহিত করলে তিনি স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রবাসগামীদের সহযোগিতার স্বার্থে কয়েক যুবকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম। তিনি এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান ও পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে বিষয়টি অবহিত করলে তারা এ ঘটনায় দু:খ প্রকাশ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে