ফেনী পুলিশে তদবির ঠেকাতে লটারিতে পোস্টিং

0
123

ফেনী সংবাদদাতা :: পুলিশের বদলি, পদোন্নতি কিংবা পোস্টিংয়ের সঙ্গে তদবির আর লেনদেন যেনো চিরাচরিত। এ অঘোষিত রীতি ভাঙতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন ফেনীর পুলিশ সুপার মো. রেজাউল হক। সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত জেলার ৬০ পুলিশ কর্মকর্তাকে লটারির মাধ্যমে পোস্টিং দেয়া হয়েছে।

পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে রক্ষিত নির্ধারিত বক্সের লটারির টিকিট তুলে নিজেরাই বেছে নিলেন কর্মস্থল। এতে করে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যেমন তদবির বা লেনদেনের বদনাম থেকে নিজেদের রক্ষা করলেন তেমনি পদোন্নতিপ্রাপ্তরাও কোনোরকম ঝামেলা ছাড়াই নতুন কর্মস্থলে পোস্টিং পেলেন।

সোমবার তাদের নির্ধারিত কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ সুপার। হঠাৎ কেনো এমন সিদ্ধান্ত নিলেন এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার উপস্থিত সাংবাদিক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনে খোলামেলাভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পদোন্নতিপ্রাপ্তদের পোস্টিংয়ে তদবির-বাণিজ্য ঠেকাতে হঠাৎ করে তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে করে পুলিশ কর্মকর্তাদের ঘুষ-দুর্নীতির প্রতি আগ্রহ কমবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরো বলেন, এ পদ্ধতির ফলে কোনোরকম পক্ষপাতমূলক আচরণের সুযোগ থাকলো না। প্রভাবমুক্তভাবেই সবাই ন্যায্য অধিকার পেয়েছেন। পুলিশের একজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কিংবা উপপরিদর্শকের (এসআই) জন্য অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিও তদবির করেন। এতে করে একজনকে সুবিধা দিতে গিয়ে অন্যজনকে ঠকাতে হয়।

ফেনীর একজন পুলিশ সদস্যের অপরাধের দায়ভারও পুরো পুলিশ বিভাগকে বয়ে বেড়াতে হয়। এটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পুলিশ সদস্যদের সেবার মান বাড়াতে হবে। মানুষের ভুল হতেই পারে, বিষয়টি স্বীকার করে তা শুধরানোর মানসিকতা থাকতে হবে।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, সহকারী পুলিশ সুপার (সদর) মো. খালেদ হোসেন, সহকারী পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. আমিনুল ইসলাম, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মীর গোলাম ফারুক, গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে