বিলুপ্তির পথে কোম্পানীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পানের বরজ

0
206

নুর উদ্দিন মুরাদ, বিশেষ প্রতিনিধি ::  নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী পানের বরজ। যেখানে প্রতিটি বাড়ীতেই পানের বরজ দেখা যেত সেখানে বর্তমানে কয়েকটি গ্রাম খুঁজেও পানের বরজ চোখে পড়েনা। ধারনা করা যাচ্ছে, বর্তমানে পান ব্যাবসা কম লাভ জনক, পান চাষ অধিক পরিশ্রম ও ব্যায় বহুল হওয়ায় এ ব্যাবসা থেকে পান চাষিরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

হিসেব কষলে দেখা যায়, আগের তুলনায় খরচ বেড়েছে প্রায় কয়েক গুন। পান চাষের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অধিক মূল্য বৃদিধকে প্রধান কারন হিসেবে উল্যেখ করে পান চাষিরা বলেন, যেখানে ১০-১৫ টাকায় খৈল কেনা যেতো সেখানে এখন কিনতে হচ্ছে ৩০ টাকার চেয়েও বেশী মুল্যে। ৭০ টাকায় যে শ্রমিক খাটানো যেতো সেখানে ৪০০-৫০০ টাকায় শ্রমিক মজুরি দিতে হয়। কিন্তু পানের দাম সে তুলনায় বাড়েনি।

এ ব্যাপারে স্থানীয় পান চাষী আহসান উল্যাহ’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার পিতা পান চাষ করে শতকে শতক জমি কিনেছেন কিন্তু আমরা এখন পান চাষ করে প্রতিদিনকার চাল কিনতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। আগেকার সময় পুঁজি কম লাগতো, নিজে পরিশ্রম করে ভালো পয়সা উপার্জন হতো। কিন্তু এখন অধিক পুঁজি  লাগায়  আমাদের মতো নিম্ন শ্রেনীর চাষীদের বহন করতে খুবই কষ্ট হয়। প্রায়ই ধার নিয়ে সংসার চালাতে হয়। যার ফলে এ ব্যাবসা করে আমরা উঠে দাঁড়াতে পারিনা।

তিনি আরো জানান, আমার বন্ধু নিতাই চন্দ্র, ভাদ্র শীল তারাও কিন্তু এসব কারনে এ পথ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তিনি আশংকা প্রকাশ করে বলেন, আর কয়েক বছর পরে পান চাষ বা পান বরজ কোম্পানীগঞ্জ বাসীর জন্য  ইতিহাস হয়ে থাকবে।

সরকারের নিকট পানচাষিদের আবেদন, যদি কম সুদে ঋন,  নায্য মূল্য ও যথাযথ উদ্ভুদ্ধ করে সার সহ যাবতীয় সহায়তা পেলে তবে হয়তো আবার পান চাষে চাষীরা উদ্ভুদ্ধ হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে