লক্ষ্মীপুরে ‘ভোট দিতে হবে ওপেন’ : আওয়ামী লীগ নেতাদের হুমকি

0
130

লক্ষীপুর সংবাদদাতা :: লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. শামসুল ইসলামকে আনারস প্রতীকে ‘ওপেন ভোট’ দিতে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ভোট দিতে ভোটারদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসককে (ডিসি) এ সম্পর্কে অবগত করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।

সোমবার দুপুরে জেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে রায়পুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ভোটারদের জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু বলেন, ”আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ‘ওপেন ভোট’ দিতে হবে। ”

ওই মতবিনিময় সভার প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশিদও গোলাম ফারুক পিংকুর বক্তব্যের উদ্বৃতি দিয়ে ‘ওপেন ভোট’ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘যে কেন্দ্রে একটি ভোট কম পড়বে, ওই এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ দায়িত্বশীলদের জবাবদিহি করতে হবে। ওই এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ”

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মামনুর রশিদের সভাপতিত্বে ওই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. শামছুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র আবু তাহের, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন, রায়পুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন হাওলাদার ও পৌরসভার মেয়র ইসমাইল খোকন।

আওয়ামী লীগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, দলের মতবিনিময় সভা শেষে নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের (পৌরসভা, কেরোয়া, বামনী, দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়ন) সদস্য প্রার্থী জামশেদ কবির বাক্কি বিল্লাহর বাড়িতে ওই ওয়ার্ডের ভোটারদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় করেন। সেখানে বাক্কি বিল্লাহকে ‘ওপেন ভোট’ দিতে ভোটারদের নির্দেশ দেন নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন। যে ভোটাররা ওপেন ভোট দিতে রাজি হবে না, তাদের নাম লিখে রাখা হবে বলে উপস্থিত ভোটারদের হুমকি দেন তিনি।

৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী মো. হারুনুর রশীদ বলেন, “আওয়ামী লীগ নেতা নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন সদস্য প্রার্থী জামশেদ কবির বাক্কি বিল্লাহকে ‘ওপেন ভোট’ দিতে বলেছেন। সদস্য প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের শপথ করানো, টাকা বিতরণ করা হচ্ছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। ”

৪ নম্বর ওয়ার্ডের (দক্ষিণ চর আবাবিল, উত্তর চর আবাবিল, রায়পুর ও চরপাতা ইউনিয়ন) সদস্য প্রার্থী মঞ্জুর হোসেন সুমন বলেন, ”উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েক নেতা ২০ হাজার টাকা করে ভোটারদের ধরিয়ে দিয়ে শপথ করাচ্ছে। তারা ভোটারদের ভয়-ভীতিও দেখাচ্ছেন। ”

চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এম আলাউদ্দিন বলেন, ”ভোট হচ্ছে আমানত, এটি গোপনীয় বিষয়। প্রকাশ্যে ভোট দিতে হলে প্রশাসনের প্রয়োজন কী? বিষয়টি আমি রিটার্নিং অফিসারকে জানিয়েছি। ”

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে সন্ধ্যায় জেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটানিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরীর মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল করলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে