লক্ষীপুরের কমলনগরে ইউপি নির্বাচন : আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের দাপটে অসহায় অন্যরা

0
235

লক্ষীপুর সংবাদদাতা :: লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় দুইটি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার, মহড়া, প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী ও তাদের কর্মীদের ওপর হামলা, প্রচার-প্রচারণায় বাধা, এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাদের ক্ষমতা আর পেশিশক্তির দাপটে অসহায় অন্য প্রার্থীরা। এ নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোন সুফল মিলছে না বলে বিএনপির দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অভিযোগ।

প্রসঙ্গত, দুই বার নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পর আগামী ৩১ অক্টোবর উপজেলার চর মার্টিন ও চর লরেন্স ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের অভিযোগ, বিএনপি ও অন্য প্রার্থীরা ভোটের মাঠে নেই। তারা নির্বাচনের পরিবেশ ঘোলাটে করছে। আর প্রশাসন বলছে, প্রার্থীরা অভিযোগ করলেও প্রমাণ দিতে পারছে না। নির্বাচনে কোন ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

বিএনপি প্রার্থীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রাথীরা পেশি শক্তি দিয়ে একাই নির্বাচনী মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তারা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা করতে দিচ্ছে না। কর্মীদের মারধর, প্রচার মাইক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, নির্বাচনী পথসভায় ককটেল নিক্ষেপ, বহিরাগতদের দিয়ে অস্ত্র প্রদর্শন করে মহড়া দিচ্ছে। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে প্রার্থীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

চর লরেন্স ইউনিয়নের বিএনপি প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন খোকন বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আমিন নিজ হাতে তার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছেন। তার ভাড়াটে বহিরাগত লোকজন বিএনপির নেতা-কর্মীদের হুমকি দিচ্ছে। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা করতে দিচ্ছে না। ভয় ও আতঙ্কে বিএনপির কর্মীরা নির্বাচনী
প্রচার-প্রচারণা করতে পারছে না। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। এর আগেও আওয়ামী প্রার্থীর ছেলে সোহেল করইতলা বাজারে তার ও তার স্ত্রীর ওপর হামলা চালিয়ে আহত করে।

চরমার্টিন ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিএনপির প্রার্থী আলী আহাম্মদ বলেন, গত ১৫ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর আগে থেকেই আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইউছুফ আলী ওরফে মিয়া ভাই প্রচার-প্রচারণা করেছেন। কিন্তু প্রতীক বরাদ্দ হলেও আমরা নির্বাচনী প্রচার করতে পারছি না। এখন শেষ মুহূর্তে ভয়-ভীতির কারণে ভোটাদের কাছে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তারা লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ভাড়াটে সস্ত্রাসীদের নিয়ে অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছে। রাত-দিন ককটেল ফাটাচ্ছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা ছাড়া অন্য কারও পোস্টার নেই।

চরমার্টিন ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম (মোটর সাইকেল) বলেন, মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ভাই ইকবাল, সিরাজ ও সুমনসহ কয়েকজন তার প্রচার মাইক ভাঙচুর করে প্রচার কর্মীকে পিটিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

চর লরেন্স ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী (আনারস) আবুল কাসেম হাওলাদার জানান, গত ২৪ অক্টোবর বিকেলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরুল আমিনের ছেলে সোহেলের নেতৃত্বে ১৫-২০ যুবক প্রচারের সময় তার কর্মীদের মারধর করে প্রচার মাইক নিয়ে গেছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিক উপজেলা রির্টানিং র্কমকর্তাকে জানানো হলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে তিনি বুধবার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এদিকে কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চর লরেন্স ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী এ কে এম নুরুল আমিন বলেন, বিএনপি নির্বাচনের মাঠে নেই। তারা কোনো প্রচার-প্রচারণা করছে না। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মাঠে আছে, নির্বাচনী প্রচার করছে। আমরা তাদের অভিনন্দন জানাই। আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে তার কোনো সত্যতা নেই। নির্বাচনের পরিবেশ ঘোলাটে করার জন্যই এসব অভিযোগ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউপি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাকির মাহমুদ বলেন, কয়েকজন প্রার্থী আমার কাছে অভিযোগ করেছেন। তাদেরকে লিখিতভাবে প্রমাণসহ অভিযোগ করতে বলা হয়েছে। তারা লিখিত অভিযোগ করেছেন কিন্তু কোন প্রমাণ দিতে পারেননি। এসব বিষয়ে কমলনগর থানার ওসিকে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চর লরেঞ্চ ইউনিয়নে ৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের একে এম নুরুল আমিন (নৌকা), বিএনপির মোশারেফ হোসেন খোকন (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলনের মো. মোছলেহ উদ্দিন (হাতপাখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদা ইয়াছমিন (ঘোড়া), মীর শিব্বির আহমেদ (চশমা), আবুল কাশেম হাওলাদার (আনারস)। এ ইউনিয়নে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৯ এবং সাধারণ সদস্য পদে ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী করছেন।

আর চরমার্টিন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন- আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ ইউসুফ আলী ওরফে মিয়া ভাই (নৌকা), বিএনপির আলী আহাম্মদ (ধানের শীষ), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) আবদুল বাতেন (তারা), ইসলামী আন্দোলনের মো. মুসলিম উদ্দিন (হাতপাখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম (মোটরসাইকেল)। এ ইউনিয়নে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১০ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ৩৭ জন প্রার্থী রয়েছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে