অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে শেষ হচ্ছে কোম্পানীগঞ্জের স্কুলছাত্রী আকলিমা

0
215

কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি :: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর ইউনিয়নে সিস্টেমিক লুপাস ইরাই থেসেটো এবং বাটার ফ্লাই নামে কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে অসহায় জীবন যাপন করছে স্কুল ছাত্রী আকলিমা আক্তার (১৯)। আকলিমা উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মৃধ্বা বাড়ির ফখরুল ইসলাম ফারুকের কন্যা এবং স্থানীয় বামনী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় বছর খানিক আগে সামান্য জ্বর থেকে সে বাটার ফ্লাই (নাকের দু-পাশে প্রজাপ্রতির ডানার মতো লাল হয়ে থাকা) রোগে আক্রান্ত হয়। আক্রান্তের পর আকলিমার বামহাতে, পিঠে, কোমরে, হাঁটুতে ফোস্কা উঠে পরক্ষণে তা গলে গিয়ে ঘা সৃষ্টি হয়ে মাংস জ্বরতে থাকে।

বর্তমানে তার বামহাতে, পিঠে, কোমরে মাংস জ্বরে পড়ে ঘা সৃষ্টি হয়েছে এবং ধীরে ধীরে হাত,পা অবশ হয়ে যাচ্ছে। ফোস্কার যন্ত্রণা ও শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টের ব্যাথায় মেয়েটি সারাক্ষণ ছটফট করে। মেয়ের অসহ্য যন্ত্রনা দেখে খুব কষ্ট লাগলেও কিছুই করার নেই বলে জানান তার বাবা,মা। ৪ বোন ১ ভাইয়ের মধ্যে আকলিমা ৩য়। বেকার বাবা পরিবার সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছেন সেখানে কি করে চিকিৎসার ব্যাবস্থা করবেন। পরিবার সূত্রে আরো জানা যায়,বেকার পিতা শুরুতে পৈত্রিক সম্পতি বিক্রি করে কন্যার চিকিৎসা ব্যয় বহন করে। কিন্তু বর্তমানে অর্থের অভাবে তাদের পক্ষে তাদের প্রিয় সন্তানের উন্নত চিকিৎসার ব্যয় ভার বহন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ সেলিম জানান,  রোগের লক্ষন দেখে ধারনা মেয়েটি এসএলই রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এ রোগের নাম সিস্টেমিক লুপাস ইরাই থেসেটো। এ রোগের জন্য ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে উন্নতমানের চিকিৎসা আছে,তবে তা দীর্ঘ মেয়াদী ও ব্যয় বহুল। এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে, ৫ থেকে ১০ বছর লাগতে পারে। এই রোগ নিয়ন্ত্রণ যোগ্য, তবে তা একেবারে নিরাময় যোগ্য নয়।

আকলিমার মা হোসনে আরা পারভিন জানান, কুমিল্লায় ডা.মুহঃ আবদুর রহিম,এম,বি,বি,এস,বি,সি,এস (স্বাস্থ্য)’র তত্ত্বাবধানে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করিয়েছি, কিন্তু আকলিমার শারীরিক অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি। আবার গত কয়েকদিন আগে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ৪জন ডাক্তার আকলিমাকে দেখে চিকিৎসার জন্য তারা ঢাকার বড় হাসপাতালে নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেন।

অসহায় পিতা অশ্রুসজল চোখে বলেন, অর্থের অভাবে ঢাকার হাসপাতালে নিতে পারছিনা। বরং যতই দিন যাচ্ছে,ততই শরীরে ফোস্কার সংখ্যা বাড়ছে। অসুস্থ কন্যার চিকিৎসা করার সাধ্য আমার নেই। চোখের সামনে মেয়েটি ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর পথে এগুচ্ছে।  এরপরেও বাবা হয়ে কিছুই করতে পারছিনা। 

অসুস্থ আকলিমার পিতা ফখরুল ইসলাম ফারুক এবং মা হোসনে আরা বেগম অসুস্থ কন্যার চিকিৎসার জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল ও সমাজের ধনাঢ্য এবং দানশীল ব্যক্তিদের সহযোগিতা চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন। তাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে,০১৮৪৪-৭৬৪১২০,০১৭৯-২০৫৭৯৩৭।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে