কোম্পানীগঞ্জে বামনী উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘গনহিস্টিরিয়ায়’ আক্রান্ত ২৫জন ছাত্র-ছাত্রী

0
126
https://www.noakhalitimes.com

কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি :: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের একটি বিদ্যালয়ের  ২৫জন ছাত্র-ছাত্রী হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। মঙ্গলবার উপজেলার বামনী উচ্চ বিদ্যালয়ে পাঠদানকালে এবং ছুটির পর বাড়ীতে যাওয়ার পর এ ঘটনা ঘটে।

প্রথমে তাদেরকে বিদ্যালয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসকরা বলছেন, তারা ম্যাস্ সাইকোজনিক ইলনেস বা গণহিস্টিরিয়ায় আক্রান্ত। তবে এখন শঙ্কামুক্ত। এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে পাশ্ববর্তী বিদ্যালয়গুলো ছুটি দিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়ার ঘটনা শুনার পর পাশ্ববর্তী ২টি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী অসুস্থ্য হয়ে পড়ে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু তাহের দুলাল জানান, ৩১জুলাই মঙ্গলবার ১১টায় বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। প্রথমে একটি ছাত্রী অসুস্থ্য হয়ে পড়ে, এরপর তার অসুস্থ্যতা দেখে বাকীরাও অসুস্থ্য হয়ে পড়ে।  

প্রধান শিক্ষক আরো জানান, রামপুর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার কাওচার জাহান এসে অসুস্থ্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অবহিত করার পর তিনি এম্ব্যুলেন্স সহ একটি মেডিকেল টিম প্রেরণ করেন। আক্রান্ত ২০ জনের মধ্যে ১৯ জন ছাত্রী ১জন ছাত্র এদের মধ্যে ১৩জনই সপ্তম শ্রেনীর বলে জানান প্রধান শিক্ষক। স্কুল ছুটি দেয়ার পর বাড়ীতে গিয়েও ৫জন অসুস্থ্য হয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। 

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. সেলিম জানান, অসুস্থতার লক্ষণ অনুযায়ী তারা ম্যাস্ সাইকোজনিক ইলনেস বা গণহিস্টিরিয়ায় আক্রান্ত। সাধারণত দুর্বলতা অথবা অন্য কোনো কারণে একজনের দেখে অন্যরাও এভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। 

বামনী উচ্চ বিদ্যালয়ের গনহিস্টিরিয়া নিয়ে রামপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যণ কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার কাওচার জাহান বলেন, হিস্টিরিয়া শারীরিক নয়, মানসিক রোগের লক্ষণ। মস্তিষ্কের ওপর খুব চাপ পড়ে, যেটি মস্তিষ্ক নিতে পারে না। এর মধ্যে আতঙ্ক, ভয় এগুলোও কাজ করে। এটা কোনো শারীরিক অসুখ নয়, এটি মানসিক অসুখ। এই খিঁচুনির সঙ্গে উপসর্গে দেখা যায়, একজনের খিঁচুনি হলে ভয় পেয়ে আরেকজনের খিঁচুনি হয়ে গেল। স্কুলে বাচ্চা থাকে। অনেক বাচ্চা একই বয়সে থাকে। একজন ভয় পেয়ে গেল, সেই ভয় আরেকজনের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে। একজনের মা হয়তো খিঁচুনি রোগে আক্রান্ত, সেই বাচ্চা তাকে দেখল, মা হয়তো সত্যিকার অর্থেই খিঁচুনি রোগে আক্রান্ত, ছোট একটি বাচ্চা দেখল তার মায়ের খিঁচুনি হচ্ছে, বাচ্চাটা ভয় পেয়ে যেতে পারে। ভয় পেয়ে তারও একটি খিঁচুনি তৈরি হয়ে যেতে পারে। এটা তো আর মূল অসুখ নয়। অসুখ দেখে তার মস্তিষ্কের চাপ গ্রহণ ক্ষমতা যেটা, তা সহ্য ক্ষমতার বাইরে চলে গেলে যে খিঁচুনি হয়, সেটা হিস্টিরিয়া। 

এখন মৃগী রোগের সঙ্গে হিস্টিরিয়ার প্রধান পার্থক্য রয়েছে। তফাৎ হলো হিস্টিরিয়া রোগে যদি অজ্ঞান হয়ে যায়, পড়ে যায়, তারা কোনো সময় আহত হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আহত হয় না। তাদের জিহ্বা কেটে যাওয়া, মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়ে যাওয়া, প্রস্রাব-পায়খানা কাপড়ে করে দেওয়া এসব সমস্যা হয়। একা একা কখনো হয় না, সবার সামনে হয়। কিন্তু মৃগী রোগ যখন, তখন যেখানে সেখানে হতে পারে। সে জন্য এই জিনিসগুলো আলাদা করা যায়।

হিস্টিরিয়া ছেলেদের কম হয়, মেয়েদের বেশি হয়। বা এ বয়সে বেশি, এর কারণ কী? এর কারণ আসলে বলা মুশকিল। মেয়েদের শারীরিক গঠন আর ছেলেদের শারীরিক গঠনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। হরমোনাল কিছু বিষয় আলাদা রয়েছে। মেয়েদের হরমোন, ছেলেদের হরমোন আলাদা। মস্তিষ্কের সহ্য ক্ষমতার ক্ষেত্রে মেয়েদের ও ছেলেদের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। এটা মস্তিষ্কের নিউরো হরমোনের কারণে হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে