বাসক এর তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ – কাপ্তাইয়ে আলোচিত ছবি মারমা হত্যা মামলায় নিরীহ ব্যাক্তিকে জড়ানোর অভিযোগ

0
105
kaptai-news

নজরুল ইসলাম লাভলু (কাপ্তাই): কাপ্তাইয়ে আলোচিত ছবি মারমা হত্যা মামলায় ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে নিরীহ এক ব্যাক্তিকে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ আইন সহায়তা ফাউন্ডেশন (বাসক) এর চেয়ারম্যান সাগরিকা ইসলাম স্বাক্ষরিত এক তদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
বাসক এর তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, বিগত ১৫ ডিসেম্বের ২০১৪ সালে সকালে চিৎমরম এলাকায় বসবাসকারী উ¤্রাচিং মারমা ওরফে ছবি মারমা (১৬) কে ধর্ষনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তখন হত্যা কান্ডের প্রায় দেড় ঘন্টার মধ্যেই স্থানীয় জনতা জড়িত সন্দেহে মোঃ রানা, পিতাঃ মাহাতাব আলী, সাং- বেঙছড়ি, মুসলিম পাড়া, উপজেলা- কাপ্তাই কে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী একই এলকার মোঃ নিজাম উদ্দিন, পিতাঃ মোঃ নাছির উদ্দিনকে পুলিশ আটক করতে সক্ষম হয়। তারা উভয়ই ছবি মারমাকে হত্যার কথা স্বীকার করে। এ ব্যপারে ওই সময় ছবি মারমার পিতা আনুমং মারমা বাদী হয়ে দন্ডবিধি ৩০২/৩৪ ধারায় কাপ্তাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-৬, তারিখঃ ১৬/১২/২০১৪, জি.আর মামলা নং-৩৬৫/১৪।
প্রতিবদনে আরও বলা হয়, ছবি মারমা হত্যা মামলায় একই এলাকার জসিম উদ্দিন, পিতাঃ মৃত কামাল উদ্দিন, স্বাক্ষী হওয়ায় রাগে ক্ষোভে প্রকৃত আসামী মোঃ নিজাম উদ্দিন, পিতাঃ মোঃ নাছির উদ্দিন ও মোঃ রানা , পিতাঃ মাহাতাব আলী এবং আসামী নিজাম উদ্দিন এর বোন ফাতেমা বেগমের প্ররোচনায় ঘটনার প্রায় দেড় বছর অতিবাহিত হওয়ার পর স্বাক্ষী জসিমের ভাই নিজাম উদ্দিন , পিতাঃ মৃত কামাল উদ্দিনকে ওই মামলায় জড়ানোর অপচেষ্টা চালায়। সে অনুযায়ী মামলার ২ জন তদন্ত কর্মকর্তা আসামী পক্ষ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে প্রকৃত আসামী মোঃ নিজাম উদ্দিন, পিতাঃ মোঃ নাছির উদ্দিনকে অব্যাহতি দিয়ে মোঃ নিজাম উদ্দিন, পিতাঃ মৃত কামাল উদ্দিনের নাম চার্জশিটে অর্ন্তভূক্ত করে। অব্যাহিত পেয়ে নিজাম উদ্দিন, পিতাঃ নাছির উদ্দিন বর্তমানে পলাতক রয়েছে। এ ব্যাপারে এক তদন্ত কর্মকর্তা স্বাক্ষী জসিমের নিকট মোটা অংকের অর্থ দাবী করে বলেন, চাহিদা মাফিক অর্থ প্রদান না করলে তার ভাইকে ওই মামলায় জড়ানো হবে বলে হুমকি প্রদান করে। চাহিদা মোতাবেক অর্থ প্রদান না করায় জসিম উদ্দিনের ভাই মোঃ নিজাম উদ্দিনকে মামলার আসামী করে বিগত ২৭/০৭/২০১৬ইং সালে আদালতে চার্জসীর্ট প্রদান করা হয়। যা সম্পূর্ন বে-আইন ও মানবাধিকার লংঘন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এর ধরনের হয়রানিমূলক মামলায় আইনগত সহায়তা চেয়ে মোঃ নিজাম উদ্দিন, পিতাঃ মৃত কামাল উদ্দিন, বেঙছড়ি মুসলিম পাড়া, কাপ্তাই এর করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২০ জুলাই ২০১৮ইং তারিখ বাংলাদেশ আইন সহায়তা কেন্দ্র ফাউন্ডেশন (বাসক) এর চেয়ারম্যান সাগরিকা ইসলামের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি দল ঘটনা তদন্তে কাপ্তাইয়ের বেঙছড়ি মুসলিম পাড়া এলাকায় আসে। তদন্ত কালীন বাসক এর কর্মকর্তারা নিহত ছবি মারমার, মা নাসিংপ্রæ মারমা, মামলার স্বাক্ষী চথুইমং মারমা, স্বামীঃ চিংবাই অং মারমা, খোকন মারমা, পিতাঃ সুইচা মারমা, খোকন মারমা, পিতাঃ মংসুইলা মারমা, মোঃ জসিম উদ্দিন, পিতাঃ মৃত কামাল উদ্দিন, মোঃ সজিবুর রহমান সজিব সহ স্থানী গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের সাথে কথা বলেন। এ সময় সবাই এক বাক্য স্বীকার করেন, ছবি মারমা হত্যায় নিজাম উদ্দিন, পিতাঃ নাছির উদ্দিন, মোঃ রানা, পিতাঃ মাহাতাব আলী জড়িত। তারা অব্যাহতি প্রাপ্ত নিজাম উদ্দিন, পিতাঃ নাছির উদ্দিন কে পূর্নরায় গ্রেফতার পূর্বক তার শাস্তি দাবী সহ নির্দোষ নিজাম উদ্দিন, পিতাঃ মৃত কামাল উদ্দিন কে অব্যাহিত দানের দাবী জানান। উল্লেখ্য, নিজাম উদ্দিন, পিতাঃ মৃত কামাল উদ্দিনকে এই হয়রানি মূলক মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান ও জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী জানিয়ে বাসক এর তদন্ত প্রতিবেদনটি মহাপুলিশ পরিদর্শক বরাবরে দাখিল করা হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে