পাকিস্তানে নির্বাচনী সমাবেশে হামলা, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৯

0
93
https://www.noakhalitimes.com

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুন খাওয়া প্রদেশের দুটি শহরে দুটি রাজনৈতিক সমাবেশে আত্মঘাতী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

আগামী ২৫ জুলাই দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন হামলার ঘটনা ঘটছে। গত দুই দিন আগেও নির্বাচনী প্রচারণায় হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

শুক্রবারের ওই দুটি হামলার একটি হামলা হয়েছে বেলুচিস্তান প্রদেশের প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটা থেকে ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে দ্রিনগড় শহরের মাসতুং জেলায় আওয়ামী পার্টি নামের একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রচারণার মিছিলে। শুক্রবার বিকালের ওই হামলায় দলটির প্রার্থীসহ ৮৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও অন্তত ১৫০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

হাসপাতালে যে ৭৩ জনকে চিকিতসা দেওয়া হচ্ছে  তাদের মধ্যে অন্তত ২০ জনের অবস্থা খুবই খারাপ।

পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যম দ্য ডন প্রাদেশিক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফায়েজ কাকারের বরাতে এই হতাহতের খবর নিশ্চিত করেছে।

আত্মঘাতী এ হামলায় বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টির (বিএপি) প্রার্থী মীর সিরাজ রাইসানি নিহত হয়েছেন। তিনি দ্রিনগড় শহরের মাসতুং জেলা আসনের প্রার্থী ছিলেন। সেই জেলাতেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত সিরাজকে কোয়েটা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তিনি মারা যান। নিহত সিরাজ ওই প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মীর আসলাম রাইসানির ছোট ভাই।

এর আগে শুক্রবার আরেকটি হামলার ঘটনা ঘটে উত্তর-পশ্চিমের খাইবার পাখতুন খাওয়ার শহর বান্নুতে। ওই হামলায় নিহত হয়েছেন ৪ জন। এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৩২ জন।

শুক্রবার সকালে জেইউআই-এফ নামের একটি ধর্মীয় রাজনৈতিক দলের সমাবেশ শেষে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সমাবেশটির আয়োজন করা হয়েছিল হুওয়াইদ এলাকাতে। সমাবেশ শেষে লোকজন যখন চলে যাচ্ছিল তখন এই হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলায় রিমোট কন্ট্রোল নিয়ন্ত্রিত বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

ওই সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হচ্ছিল খাইবার পাখতুন খাওয়ার সাবেক প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী আকরাম খান দুররানির তত্ত্বাবধানে। কিন্তু হামলায় তার কোনো ক্ষতি হয়নি।

এর আগে, গত মঙ্গলবার পেশোয়ারে এক আত্মঘাতী হামলায় নিহত হয়েছেন আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির (এএনপি) প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ হারুন বিলৌর। ওই হামলায় মোট ২০ জন নিহত এবং ৬৯ জন আহত হয়েছেন। হামলার দায় স্বীকার করেছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। ২০১২ সালে তালেবান হারুন বিলৌর এর বাবাকেও হত্যা করেছিল।

এর আগে ৭ জুলাই বান্নুতে মুত্তাহিদা মাজলিস-ই-আমাল (এমএমএ) এর ওপর হামলায় ৭ জন এবং চলতি মাসের শুরুতে উত্তর ওয়াজিরিস্তানের রামজাকে ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফের ওপর হামলায় ১০ জন আহত হয়।

পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ পিস স্টাডিজ নামক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হিসেব মতে, পাকিস্তানে গত ২০১৩ সালের নির্বাচনের আগে ছয় সপ্তাহের নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত হয়েছিলেন ১৫৮ জন। এবারও তেমনই সহিংসতা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

২০০৭ সাল থেকেই জঙ্গি সংগঠন টিটিপি-র বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে পাকিস্তান সরকার। ২০১৪ সালে পাকিস্তান সরকার উত্তর ওয়াজিরিস্তানে তালেবানের সদর দপ্তরে সাঁড়াশি অভিযান চালায়। এরপর থেকে জঙ্গিদের সহিংসতায় কিছুটা ভাটা পড়ে। কিন্তু এরপরও সাধারণ নাগরিক এবং নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে।

সূত্র: দ্য ডন

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে