প্রথমেই কৃতজ্ঞতা জানাই দৈনিক জাতীয় নিশান সংশ্লিষ্ট সকলকে। এরপর কাজ করার সুযোগ হয়-দৈনিক জনতা, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন, দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক খোলা কাগজ ও দৈনিক বিজনেস বাংলাদেশ-এ। বর্তমানে কাজ করছি- দৈনিক জাতীয় নিশান, দৈনিক দি বাংলাদেশ টুডে ও দৈনিক নবচেতনা-য়।
সাংবাদিকতা একসময় ছিল অত্যন্ত সম্মানজনক পেশা। ভদ্র, সাহসী ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ ব্যক্তিরাই এ পেশায় কাজ করতেন- যেখানে সততাই ছিল প্রধান মূল্যবোধ। কিন্তু ২০১৪ সালের পর ধীরে ধীরে সম্পাদকসহ বিভিন্ন স্তরে অর্থলোভের প্রভাব বাড়তে শুরু করলে এই পেশার প্রতি মানুষের আস্থা কমতে থাকে এবং তা আজ প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। সাংবাদিকদের অসহায়ত্ব নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিলে একভাগও পক্ষে মন্তব্য পড়েনা।
এমন প্রেক্ষাপটে সম্ভাবনাময় ও দূরদর্শী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি এএইচ এম মান্নান মুন্না ভাই’র নেতৃত্বে ও এম এস আরমান,এবং শাহাদাত হোসেন’র উদ্যোগে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের একদল শিক্ষিত, উদ্যমী, সাহসী ও ত্যাগী Gen-Z তরুণদের নিয়ে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠেছে, যারা সাংবাদিকতার হারানো আস্থা পুনরুদ্ধারে আন্তরিকভাবে নিরলস কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে এ যাবৎ তাদের কিছু কাজ দিয়ে প্রমাণ করেছে।
সারাদেশে সাংবাদিকতার প্রতি মানুষের আস্থা ব্যাপকভাবে নষ্ট হয়েছে। সেই আস্থা পুনরুদ্ধারে যাত্রা শুরু করতে চায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব। এ লক্ষ্য সামনে রেখে আজকের আলোচনায় তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে-উপজেলার ভুক্তভোগী মানুষের পাশে দাঁড়াতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া, দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠীর সহযোগিতার জন্য অর্থ সংগ্রহ এবং তা স্বচ্ছতার সাথে যথাযথভাবে বণ্টনের ব্যবস্থা করা। পাশাপাশি শিক্ষাবৃত্তি চালু করা, হতদরিদ্র অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, দরিদ্র অবিবাহিত নারীদের আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে বিয়ের ব্যবস্থা করা, নীড়হারা মানুষের নীড়ের ব্যবস্থা করা ।
এছাড়াও মাদকাসক্ত কিশোরদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা, বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সমাজে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশ নিশ্চিত করা, ভুয়া খবর ও অপপ্রচার রোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখা এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যাগুলো তুলে ধরতে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রতিটি সদস্য শিক্ষিত এবং প্রত্যেকে কোনো না কোনো সম্মানজনক ও ভালো আয়ের পেশার সাথে জড়িত। ফলে সাংবাদিকতার আড়ালে চাঁদাবাজি বা অবৈধ আয়ের কোনো চিন্তা এই ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে নেই-এ বিষয়টি ইতোমধ্যেই স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।
আমি তাদের সাথে যুক্ত থাকতে পেরে এবং তাদের এমন মানবিক ও দায়িত্বশীল কর্মকাণ্ডে এখন পর্যন্ত স্বচ্ছতা প্রত্যক্ষ করতে পেরে নিজেকে সম্মানিত বোধ করছি।
প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাংবাদিকতার প্রতি হারানো আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।
লেখক: সিনিয়র সহ-সভাপতি, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব,নোয়াখালী।

