কোম্পানীগঞ্জে পাওনা টাকা চাওয়ায় ধর্ষণের মিথ্যা মামলা

প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

0
100
https://noakhalitimes.com

কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি :: পাওনা টাকা চাওয়ায় নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকচ্ছপিয়া ৯নং ওয়ার্ডের সমাজ সভাপতি বেলায়েত হোসেন হকসাবকে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা সাজিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকচ্ছপিয়া ৯নং ওয়ার্ডের পূর্ব চরকচ্ছপিয়া নামকস্থানে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।

হকসাবের পরিবার সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার মাঈন উদ্দিনের স্ত্রী নুর নাহার (৫০) হকসাব থেকে তিনটি গরু বর্গা নেয় এবং দীর্ঘদিন তার দোকান থেকে বাকীতে মালামাল ক্রয় করলে সর্বমোট ১লক্ষ ৮০ হাজার টাকা হক সাব পাওনা হয়। ওই টাকা পরিশোধ না করে নুর নাহার ও তার পরিবার এলাকা ছেড়ে মুছাপুর ইউনিয়নের আদর্শ গ্রামে বসতি স্থাপন করে। হকসাব তার পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য নুর নাহারকে চাপ দেয়। নুর নাহার ওই টাকা পরিশোধে গড়িমসি করলে হকসাব নোয়াখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে রিয়াদ ও নুর নাহারকে বিবাদী করে দন্ড বিধি ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলা দায়ের করে। এ দিকে গত বছরের ১৫জুন তারিখে নুর নাহার তার মেয়ে পলি আক্তার (১২) কে ধর্ষণ করার অভিযোগ এনে হকসাবকে একমাত্র আসামী করে গত শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করে, মামলা নং- ০৬। পুলিশ কোন রকম তদন্ত ছাড়াই ধর্ষণ মামলা রুজু করে রবিবার সকালে হকসাবকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

এ ব্যাপারে এলাকার সর্বস্তরের নারী-পুরুষ, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন ও সমাজের নেতৃবৃন্দ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে এবং নুর নাহারের বিচার চেয়ে বেলায়েত হোসেন হকসাবের মুক্তি দাবী করে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী নুর নাহারের বোন মোক্তারী বেগম, ভাগনী পরানী বেগম ও ভাগনী জামাই মাইন উদ্দিন বলেন, হকসাব একজন সামাজিক লোক। তিনি নুর নাহার থেকে পাওনা টাকা আদায়ে কোর্টে মামলা করলে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা ধর্ষণের এ মিথ্যা মামলা সাজায়।

মসজিদের ইমাম মহিন উদ্দিন বলেন, আমি এলাকায় দীর্ঘদিন ইমামতি করি। হকসাব একজন ভালো মানুষ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগটি সাজানো। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর জাহিদুল ইসলাম রনি গণমাধ্যমকে জানান, নোয়াখালী টিভিতে ঘটনাটি ভাইরাল হওয়ায় আমরা ভিকটিমের বাড়ীতে যাই। পরবর্তীতে ভিকটিমের অভিযোগের ভিত্তিতে হকসাবকে আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রমাণিত হলে দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে