নোয়াখালীর দর্শনীয় স্থাপনা

Date:

নোয়াখালী টাইমস্‌ ডেস্ক :: নোয়াখালী শহরকে বলা হয় শান্তির শহর। নোয়াখালীর প্রবেশপথ বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা থেকে সোজা মসৃণ পথ ধরে দক্ষিণে দশ কিলোমিটার পথ পেরুলেই নোয়াখালী জেলাশহর মাইজদী কোর্ট। চৌরাস্তার পশ্চিমদিকের সড়ক চলে গেছে লক্ষ্মীপুর জেলায়। পূর্বদিকে ফেনীমুখী চৌরাস্তা ধরে দুই কিলোমিটার সামনে পড়বে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বৃহৎ ও ব্যস্ততম বাণিজ্যকেন্দ্র চৌমুহনী বাজার| এক সময় এটি সরিষার তেলের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। চৌরাস্তার মোড়ে চোখে পড়বে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্মারক স্তম্ভ, টেকনিক্যাল স্কুল। রাস্তার পাশে কৃষি ইনস্টিটিউট, তারপর একলাসপুর বাজার এবং স্কুল। তার একটু সামনে গেলেই কারিগরি কলেজ, যুব উন্নয়ন ভবন। চৌরাস্তা থেকে মাইজদী পর্ষস্ত রাস্তার দু’পাশে রয়েছে অনেকগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। রাস্তার দু’পাশে পড়বে সবুজের সমারহ। একটু সামনে গাবুয়া পোলের পরেই নোয়াখালী গেইট। এখান থেকেই শুরু হয়েছে নোয়াখালী পৌরসভা। এখানে মাইজদী বাজারে পড়বে নোয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী অরুণচন্দ্র হাই স্কুলসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মাইজদী বাজারের পরেই রয়েছে মাইজদী শহিদ ভুলু স্টেডিয়াম। তারপরেই পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার। এর অনতি দূরেই প্রাথমিক শিক্ষা ইনস্টিটিউট। পাশাপাশি রয়েছে নোয়াখালী পৌরসভা। বামে রয়েছে সুধারাম থানা। এখানেই পাশাপাশি রয়েছে সোনালী ব্যাংক ও জনতা ব্যাংক। এখান থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার লম্বা দু’পাশে নোয়াখালীর ব্যস্ততম বাণিজ্যকেন্দ্র। মূলত এখানে সবগুলোই নানান পণ্যসামগ্রীর দোকান। এর মাঝে মাঝে রয়েছে অনেকগুলো ব্যাংক বীমার অফিস। এই এলাকাতে রয়েছে নোয়াখালীর এতিহ্যবাহী নোয়াখালী জিলা স্কুল। এর পাশাপাশি রয়েছে নোয়াখালী পৌর বাজার। তারপরেই রয়েছে হরিনারায়ণপুর হাই স্কুল। এখানে প্রধান সড়ক আব্দুল মালেক উকিল সড়ক থেকে পূর্বদিকে গেলেই পড়বে পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল এবং সড়ক ও জনপদ বিভাগের অফিস। এর বিপরিতে রয়েছে সৌম্যস্নিগ্ধ নোয়াখালী জামে মসজিদ ।

নোয়াখালী জামে মসজিদ নোয়াখালী পুলিশ সুপারের কার্যালয় এখান থেকে পূর্বে রয়েছে টেলিফোন ভবন। তারপর নোয়াখালীতে নারীশিক্ষার পথিকৃৎ নোয়াখালী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়। এর বিপরীতে রয়েছে সার্কিট হাউস। এখানেই রয়েছে সরকারি কর্মকর্তাদের বাসস্থান। তার একটু সামনে এগুলেই নোয়াখালী মহিলা কলেজ। এর একদিকে আবহাওয়া আফিস অন্যদিকে রয়েছে নোয়াখালী কোর্ট স্টেশন। শহরের পূর্ব পাশে রয়েছে নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ।

নোয়াখালীর প্রধান সড়ক ধরে সামনে এগুলে প্রথমে পড়বে সদর উপজেলা অফিস এবং তার পরেই রাস্তার পাশে পড়বে দত্তেরহাট। তার একটু সামনে জেলা কাউন্সিল অফিস সুন্দর ছিমছাম দিঘির পাশে নোয়াখালীর অতি পুরাতন জেলা পরিষদ পাঠাগার ।

সম্প্রতি নতুন করে বৃহদাকারে দৃষ্টিনন্দন এ ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রধান সড়কের পাশে রয়েছে নোয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী কেরামতিয়া মাদ্রাসা। তারপরেই সোনাপুর কলেজ। এর বিপরিতদিকে আছে নোয়াখালীর শেষ রেলওয়ে স্টেশন। এর সামনেই দ্রুত প্রসারমান সোনাপুর বাজার। এখানেই নোয়াখালীর জিরোপয়েন্ট ধরা হয়। এই জিরোপয়েন্টে চারটি রাস্তার সংযোগ রয়েছে। এই চারটি রাস্তার পশ্চিমদিকে রমাগতি, পূর্বে কবিরহাট, উত্তরে নোয়াখালী শহর এবং দক্ষিণে হাতিয়াঘাট। এই জিরো পয়েন্টের দক্ষিণেই ছিল পুরাতন নোয়াখালী শহর। পঞ্চাশের দশকে যা নদীগর্ভে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যায়। এখন সেখানে আবার নতুন চর জেগে ওঠায় ধীরে ধীরে জনমানুষের বসতি গড়ে উঠেছে। এর তিন কিলোমিটার সামনে গেলেই একশত একর পরিধি নিয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

নোয়াখালী শহরের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে বিশ একর পরিধি নিয়ে মাইজদী বড় দিঘি। ১৯২০ সালে এ দিঘি খনন করা হয়।

নোয়াখালী কোর্ট বিল্ডিং : বড় দিঘির উত্তর পাড়ে রয়েছে নোয়াখালী কোর্ট বিল্ডিং এবং দক্ষিণ পাড়ে রয়েছে জজ আদালত ভবন, প্রেস ক্লাব, বিআরডিবি ট্রেনিং সেন্টার। এর উত্তরে প্যারামেডিক্যাল স্কুল এবং পশ্চিমে রয়েছে গণপূর্ত ভবন। শহরের পশ্চিম প্রান্তে রয়েছে নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। এর আশেপাশে গড়ে উঠেছে অনেকগুলো অত্যাধুনিক প্রাইভেট হাসপাতাল। হাসপাতাল এলাকার দক্ষিণে রয়েছে মাইজদী আবাসিক এলাকা।

www.noakhalitimes.com

নোয়াখালী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার :  জেলা থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে ভাষা আন্দোলনের সাক্ষী নোয়াখালী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার (Noakhali Central Shohid Minar) অবস্থিত। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারী ভাষা আন্দোলনের শহীদের স্মরণে প্রথমে বেগমগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এই শহীদ মিনারটি স্থাপন করা হলেও পরবর্তীতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কয়েকবার স্থান পরিবর্তন করে বর্তমানে জেলা জজ আদালতের পাশে স্থাপন করা হয়েছে।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙ্গালী জাতির প্রথম স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন। এই আন্দোলনে সাড়া দিয়ে নোয়াখালীর ছাত্র-শিক্ষকসহ সর্বস্তরের মানুষ একাত্ব হয়ে উঠে। আইয়ুব শাসক গোষ্ঠীর নজর এড়িয়ে ভাষা আন্দোলনের শহীদের স্মরণে বেগমগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে একদল প্রগতিশীল তরুণ কাঁদামাটি দিয়ে জেলার প্রথম শহীদ মিনার স্থাপন করে। সেই দিনই পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে নোয়াখালী জেলায় প্রথম শহীদ মিনার দিবস পালন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৩ সালে ইট ও সিমেন্ট দিয়ে শহীদ মিনারটি স্থায়ী ভাবে স্থাপন করা হলেও স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে জেলা জজ আদালতের পাশে শহীদ মিনারটি স্থানাস্তর করা হয়। ১৯৯২ সালের নভেম্বর মাসে জেলা জজ আদালতের পার্শ্ববর্তী শিশুপার্কে নতুন ভাবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পুনঃস্থানান্তর করা হয়। ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে দাড়িয়ে থাকা এই শহীদ মিনারের মুক্তমঞ্চে বিশেষ দিনগুলোতে বিভিন্ন ধরণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলার আয়োজন করা হয়।

www.noakhalitimes.com

নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদ : জেলার প্রাণকেন্দ্রে শহরের অন্যতম প্রধান মসজিদ নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদ (Noakhali Zilla Jame Mosque) অবস্থিত। অনন্য সুন্দর এই স্থাপনাটি স্থানীয়দের কাছে মাইজদী বড় মসজিদ নামে পরিচিত। ১৮৪১ সালে পুরাতন নোয়াখালী শহরে ইমাম উদ্দিন নামের এক সওদাগর নিজ জমিতে নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদ স্থাপন করেন। মূল নোয়াখালী শহরের সাথে এই জামে মসজিদটিও মেঘনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পরবর্তীতে নোয়াখালী জেলার মূল শহর মাইজদীতে স্থানান্তর করার সময় ১৯৫০ সালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যাক্তিগত আর্থিক সহায়তায় নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদ পুনঃনির্মাণ করা হয়।

প্রায় ৩.৮ একর জায়গার উপর নির্মিত জেলা জামে মসজিদের নির্মাণশৈলীতে মুসলিম ও দেশী লোকজ শিল্পের প্রভাব লক্ষ করা যায়। মসজিদের দৈর্ঘ্য ১৩০ ফুট এবং প্রস্থ ৮০ ফুট। মসজিদের অভ্যন্তরে থাকা পুরনো মসজিদের সুদৃশ্য ঝাড়বাতি, লোহার সুদৃশ্য গেইট ও অসংখ্য শ্বেত পাথরের টুকরো মসজিদের শোভা বর্ধন করছে অসাধারণ শৈল্পিকতায়। মসজিদের মূল ভবনে আছে ইসলামী স্থাপত্যে নির্মিত ৩টি সুদৃশ্য গম্বুজ ও ৯টি মিনার। এছাড়া ছোট এক তলা ভবনে নকশাকারে ফুল-লতাপাতাসহ কোরআনের বিভিন্ন আয়াত ও উপদেশমূলক বাণী খচিত হয়েছে।

নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদে আগত মুসল্লিদের জন্য আধুনিক শৌচাগার, গোসলখানা ও অজুখানা নির্মাণ করা হয়েছে। আর মসজিদের পশ্চিম দিকে আছে একটি বড় পুকুর, দক্ষিণ দিকে জিলা স্কুল , উত্তরে ষ্টেশন রোড, জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল ও জেলা সড়ক বিভাগের ভবন এবং পূর্ব দিকে আছে গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয়। বর্তমানে নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদের সাথে “মানব কল্যাণ মজলিস” নামের একটি জনহিতকর সংস্থা আর্তমানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছে।

www.noakhalitimes.com

বজরা শাহী জামে মসজিদ : জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নে নির্মিত ঐতিহাসিক মসজিদের নাম বজরা শাহী মসজিদ। দিল্লির শাহী জামে মসজিদের নকশার অনুকরণে বজরা শাহী মসজিদটি গড়ে তোলা হয়েছে। ইতিহাস থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ১৭৪১-৪২ সালে জমিদার আমানুল্লাহ ৩০ একরের ভূমিতে একটি বিশাল দীঘি খনন করেন এবং দীঘির পশ্চিম প্রান্তে একটি আকর্ষণীয় মসজিদ নির্মাণ করেন। সুন্দর প্রবেশ তোরণ বিশিষ্ট বজরা শাহী মসজিদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১১৬ ফুট, প্রস্থ প্রায় ৭৪ ফুট এবং মসজিদটির উচ্চতা প্রায় ২০ ফুট। ৩ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটির ভীত মাটির প্রায় ২০ ফুট নিচ থেকে তৈরী করা হয়েছে। তিনিটি গম্বুজই সুদৃশ্য মার্বেল পাথর সুসজ্জিত। মসজিদের অভ্যন্তরে প্রবেশের জন্য ৩ টি ধনুকাকৃতি দরজা এবং কেবলার দিকে ৩ টি কারুকার্য খচিত মিহরাব রয়েছে। মসজিদের প্রবেশ পথের তোরণের উপর আরো কয়েকটি গম্বুজ প্রত্যক্ষ করা যায়। ঐতিহ্যবাহী বজরা শাহী মসজিদটি নির্মাণের প্রায় ১৭৭ বছর পর ১৯০৯ সালে প্রথমবার মসজিদটি সংস্কার করা হয়।

লোকমুখে প্রচলিত আছে, বজরা শাহী মসজিদে কোন কিছু মানত করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। তাই দূর- দূরান্ত থেকে মানুষ এসে বজরা শাহী মসজিদে নামাজ আদায় এবং দুরারোগ্য ব্যাধি হতে মুক্তি পাওয়ার আশায় মসজিদে টাকা-পয়সা ও সিন্নি দান করেন। ১৯৯৮ সালে ২৯ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ঐতিহাসিক বজরা শাহী মসজিদের ঐতিহ্য রক্ষা এবং দুর্লভ নিদর্শন সংরক্ষণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

মোগল সম্রাট মোহাম্মদ শাহের অনুরোধে সৌদি আরবের পবিত্র কাবা শরীফ হতে মাওলানা শাহ আবু সিদ্দীক বজরা শাহী মসজিদের প্রথম ইমাম হিসেবে দ্বায়ীত্ব পালন শুরু করেন। মাওলানা শাহ আবু সিদ্দীক সাহেবের বংশধরগণ যুগ যুগ ধরে বজরা শাহী মসজিদের ইমামের দায়িত্ব পালন করে চলছেন। বর্তমানে শাহ আবু সিদ্দীক সাহেবের ৭ম পুরুষ ইমাম হাসান সিদ্দীকি বজরা শাহী মসজিদে ইমাম হিসাবে নিযুক্ত আছেন।

www.noakhalitimes.com

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন গ্রন্থাগার : ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের মধ্যে মোঃ রুহুল আমিন অন্যতম। ২০০৮ সালের ২০ জুলাই নোয়াখালী জেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে সোনাইমুড়ী উপজেলার সদরের দেওটি ইউনিয়নের বাগপাচড়া গ্রামে (বর্তমান রুহুল আমিন নগর) রুহুল আমিনের পৈত্রিক ভূমিতে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর (Birshrestho Ruhul Amin Memorial Museum) নির্মাণ করা হয়। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই স্মৃতি জাদুঘরে আছে সুসজ্জিত লাইব্রেরী, অফিস ও অভ্যর্থনা কক্ষ।

১৯৩৪ সালে ১ ফেব্রুয়ারী নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ৯নং দেওটি ইউনিয়নের বাগপাচড়া গ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ মোঃ রুহুল আমিন জন্মগ্রহণ করেন। রুহুল আমিনের পিতার নাম আজাহার পাটোয়ারী এবং মাতার নাম জুলেখা খাতুন। বাগপাচড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে শিক্ষা জীবন শুরু করে ১৯৪৯ সালে আমিশাপাড়া কৃষক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিকুলেশন পাস করেন।

মোঃ রুহুল আমিন বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাবে ভূষিত হন। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোঃ রুহুল আমিনের নামানুসারে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজ বিএনএস রুহুল আমিনের নামকরণ করা হয়েছে।

www.noakhalitimes.com

গান্ধী আশ্রম : গান্ধী আশ্রম (Gandhi Ashram) নোয়াখালী জেলার মাইজদী কোর্ট থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে সোনামুড়ী উপজেলার জয়াগ বাজারের কাছে অবস্থিত মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। প্রয়াত জমিদার ব্যারিস্টার হেমন্ত কুমার ঘোষের বাড়িতে স্থাপিত গান্ধী আশ্রম নোয়াখালীর একটি সেবামূলক সংগঠন হিসেবে সারা দেশব্যাপী সুনাম অর্জন করেছে।

মহাত্মা গান্ধীর অহিংস সমাজ ব্যবস্থার ধারণাকে সবার কাছে পৌঁছে দিতে ২০০০ সালের ২ অক্টোবর গান্ধী আশ্রমের মূল ভবনে গান্ধী স্মৃতি জাদুঘর যাত্রা শুরু করে। গান্ধীর বিভিন্ন দুর্লভ ছবি, বই, ব্যবহার্য জিনিস এবং তাঁর বৈচিত্র্যময় কর্মজীবন যে কারো মনোজগৎ নাড়িয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ঠ।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯৪৬ সালের শেষের দিকে শুরু হাওয়া ভারতবর্ষের সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প নোয়াখালীতেও ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৪৬ সালের ৭ নভেম্বর শান্তি মিশনের দূত হয়ে অহিংস আন্দোলনের জনক মহাত্মা গান্ধী নোয়াখালীর চৌমুহনী রেলস্টেশনে পদার্পন করেন। সাম্প্রদায়িক মনোভাব দূর করার উদ্দেশ্যে ঘুরতে ঘুরতে ১৯৪৭ সালের ২৯ জানুয়ারি মহাত্মা গান্ধী জয়াগ গ্রামে এসে পৌঁছান।

আর সেদিন নোয়াখালী জেলার প্রথম ব্যারিস্টার হেমন্ত কুমার ঘোষ তার সমস্ত সম্পত্তি গান্ধীজির আদর্শ প্রচার ও স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে আম্বিকা কালিগঙ্গা চ্যারিটেবল ট্রাস্ট এবং গান্ধী আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৫ সালে ট্রাস্টের নাম পরিবর্তন করে গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট রাখা হয়।

সময়সূচী: প্রতি সপ্তাহের সোম থেকে শনিবার গান্ধী স্মৃতি জাদুঘর সকল দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে।

www.noakhalitimes.com

নিঝুম দ্বীপ :  নিঝুম দ্বীপ (Nijhum Dwip) নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় অবস্থিত বঙ্গপসাগরের ছোট্ট একটি দ্বীপ। প্রায় ১৪,০৫০ একর আয়তনের এই দ্বীপটি কামলার চর, বল্লার চর, চর ওসমান ও চর মুরি নামের চারটি দ্বীপ ও কয়েকটি চরের সমন্বয়ে গঠিত। শীতকালে নিঝুম দ্বীপে সরালি, জিরিয়া, লেনজা, পিয়ং, রাঙ্গামুড়ি, চখাচখি, ভূতিহাঁস, রাজহাঁস, কাদাখোঁচা, বাটান, জিরিয়া, গুলিন্দা, গাংচিল, কাস্তেচরা, পেলিক্যান ইত্যাদি হাজারো অতিথি পাখির আগমন ঘটে। স্থানীয় পাখির মধ্যে চোখে পড়ে সামুদ্রিক ঈগল, বক শঙ্খচিল। এছাড়া দ্বীপে রয়েছে হরিণ, বন্য শূকর, শেয়াল, বানর এবং নানা রকম সাপ।

নিঝুম দ্বীপে হরিণের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। পাখি বা হরিণ দেখতে ভোরে উঠে স্থানীয় গাইডের সাহায্য নিতে পারেন। নিঝুম দ্বীপের মতো দেশের অন্য কোথাও একসাথে এত চিত্রা হরিণ দেখা যায় না। আর পাখি দেখতে চাইলে পার্শ্ববর্তী দ্বীপ কবিরাজের চর ও দমার চর উত্তম জায়গা। নিঝুম দ্বীপে দেখা মিলে প্রায় ৩৫ প্রজাতির বিভিন্ন পাখির। 

www.noakhalitimes.com

মুছাপুর ক্লোজার : জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নে বঙ্গোপসাগর ও ফেনী নদীর মোহনায় নির্মিত মুছাপুর ক্লোজার (Muchapura/Musapur Closure) মিনি কক্সবাজার বা মুছাপুর সমুদ্র সৈকত হিসেবে সুপরিচিত। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে মুছাপুর ক্লোজার অন্যতম প্রিয় গন্তব্য। নৈসর্গিক প্রাকৃতিক পরিবেশ, নদীর বুকে সুর্যাস্থের দৃশ্য, জোয়ার-ভাটা এবং জেলেদের কর্মময় ব্যস্থতা আগত দর্শনার্থীদের বিনোদিত করে। মুছাপুর ক্লোজার এলাকায় ফেনী নদী পাড় দেখতে সাগর সৈকতের চেয়ে কোন অংশে কম নয়।

ক্লোজারের চরের মধ্যে প্রায় তিন হাজার একর ভূমি জুড়ে রয়েছে সবুজ বৃক্ষের বনাঞ্চল মুছাপুর ফরেস্ট। ১৯৬৯ সালে পরিকল্পিতভাবে চালু করা এই বনাঞ্চলে আছে আকাশমনি, ঝাউ, পিটালী, কেওড়া, লতাবল, গেওয়া, শনবলই, বাবুলনাটাই ইত্যাদি বৃক্ষরাজির সমাহার এবং নানা প্রজাতির দেশীয় পশুপাখির অবাধ বিচরণ। ফলে নদী, সমুদ্র সৈকত এবং জীববৈচিত্রপূর্ণ বনাঞ্চলের মেলবন্ধনে মুছাপুর ক্লোজার ভ্রমণপিপাসুদের পর্যটকদের জন্য একটি আকাঙ্ক্ষিত অবকাশ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

www.noakhalitimes.com

ড্রিম ওয়ার্ল্ড পার্ক : জেলার ধর্মপুর গ্রামে প্রায় ২৫ একর জায়গাজুড়ে নোয়াখালী ড্রিম ওয়ার্ল্ড পার্ক (Noakhali Dream World Park) গড়ে তোলা করা হয়েছে। সম্পূর্ণ বেসরকারী উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই পার্কে সকল বয়সী দর্শনার্থীদের বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে অবস্থিত নোয়াখালী ড্রিম ওয়ার্ল্ড পার্ক অত্র জেলার সর্ববৃহৎ বিনোদন কেন্দ্র হিসাবে সর্বমহলে অত্যন্ত সুপরিচিত।

নোয়াখালী ড্রিম ওয়ার্ল্ড পার্কের আকর্ষণীয় রাইডের মধ্যে রয়েছে সুইং চেয়ার, প্যাডেল বোট, হেলিকপ্টার, সোয়ান বোট, মেরি গো রাউন্ড, কিডস ট্রেন, ফ্যামেলি ট্রেন, ফেরিস হুইল, বাম্পার কার এবং নাগরদৌলা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া আরও আছে ঝর্ণা, সবুজে ঢাকা পাহাড়, লেক, সুইমিংপুল, কার পার্কিং, পিকনিক এবং নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

নোয়াখালী ড্রিম ওয়ার্ল্ড পার্ক সপ্তাহের সাত দিন সকাল ৯ টা ৩০ মিনিট হতে সন্ধ্যা ৬ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Share post:

Subscribe

Popular

More like this
Related

সেনবাগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. রিপন (৩৬) ও...

ফেনী জেলা পরিষদের নতুন নির্বাহী কর্মকর্তা আজগর আলী’র যোগদান

নিজস্ব প্রতিবেদক : ফেনী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা...

কোম্পানীগঞ্জে আম পাড়তে গিয়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি :: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় আম পাড়তে...