সেট টপ বক্স: বাংলাদেশের টেলিভিশনের গ্রাহকরা সেট টপ বক্স যুক্ত করলে কার লাভ কতটা

0
14
https://noakhalitimes.com

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক ::বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ জানিয়েছেন ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে ঢাকা এবং চট্টগ্রামে এবং ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে সারাদেশে কেবল টিভির গ্রাহকদের টিভির সঙ্গে সেট টপ বক্স লাগাতে হবে। এই সময়ের মধ্যে তা না লাগালে কেবল টিভি দেখতে সমস্যা হবে বলে মন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন।

গত ৩১ অক্টোবর সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো), চ্যানেল ডিস্ট্রিবিউটর ও কেবল অপারেটরগুলোর প্রতিনিধিদের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, কেবল নেটওয়ার্ক ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তরের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হওয়ায় এসব শহরের গ্রাহকদের সেট-টপ বক্স ব্যবহার করতে হবে। নয়ত স্যাটেলাইট টেলিভিশন দেখায় সমস্যা হবে।

সেট-টপ বক্স কী?
সেট-টপ বক্স হলো এমন এক রিসিভার যা কেবল টিভির গ্রাহক প্রান্তে থাকে। এই রিসিভার অ্যানালগ সিগন্যালকে ডিজিটাল সিগন্যালে রূপান্তর করে। এতে গ্রাহক ঝকঝকে ছবি ও ভালো মানের শব্দ উপভোগ করতে পারেন।

গ্রাহকরা কি সেট টপ বক্স লাগাতে বাধ্য?
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রচার) খাদিজা বেগম বলেন,সরকার যেহেতু সব ক্ষেত্রকে ডিজিটালাইস করছে তার অংশ হিসাবেই এটা করা হচ্ছে।

যদি গ্রাহকরা ৩০শে নভেম্বর বা ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের টিভির সঙ্গে সেট টপ বক্স যুক্ত না করে তাহলে তাদের কেবল কানেকশন থাকবে কিনা – এমন প্রশ্নে খাদিজা বেগম বলেন “যখন একটা সিস্টেম অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল করা হবে তখন দর্শকদেরকে সেই সিস্টেমের মধ্যে আসতে হবে। এটা বাধ্য করার কোন বিষয় না।”

কোথা থেকে সেট টপ বক্স কিনতে হবে?
কেবল অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)-এর সভাপতি এস এম আনোয়ার পারভেজ বলছেন সেট টপ বক্স নিতে হলে তাদের কাছ থেকেই নিতে হবে।

মি. পারভেজ বিষয়টা ভেঙ্গে বলেন “একজন গ্রাহক যেখান থেকে কেবল কানেকশন নিয়েছেন তাদের কাছ থেকেই সেট টপ বক্স নিতে হবে। ঐ প্রতিষ্ঠানকে আবার কোয়াবের কাছ থেকে এই সেট টপ বক্স নিতে হবে। এর বাইরে কোন স্থান থেকে কেনা যাবে না।”

তিনি বলেন ৯৫ শতাংশ সেট টপ বক্স চীন থেকে আমদানি করা হয়। বাংলাদেশে কোন সেট টপ বক্স প্রস্তুত করা হয় না।

এদিকে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা বেগম বলেন, কারা এই সেট টপ বক্স আনবে এমন কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।

তিনি বলেন: “সেট টপ বক্স একজন দর্শক যে কোন স্থান থেকে কিনে তার ঘরের টেলিভিশনের সঙ্গে লাগাতে পারেন। সেট টপ বক্স কেনার জন্য একক কোন প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনকে দায়িত্ব দেয়া হয়নি।”

এদিকে ঢাকায় এবং ঢাকার বাইরে কেবল লাইন সংযোগের জন্য এলাকা ভেদে ভিন্ন ধরনের দাম নির্ধারণ করা হয়।

দেশের সবস্থানে প্রতি মাসে একই দাম নির্ধারণ করা হবে কিনা সে বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয় নি বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।

কত দামে সেট টপ বক্স কিনতে হবে:
কোয়াব বলছে একটা সেট টপ বক্সের দাম সর্বনিম্ন ১৬শ টাকা থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার টাকা।

কোয়াবের সভাপতি বলছেন , দেশে কত কেবল গ্রাহক আছে তার কোন হিসেব নেই। তবে আনুমানিক দেড় কোটি গ্রাহক থাকলে এই দেড় কোটি সেট টপ বক্স আমদানি করতে প্রায় তিন কোটি টাকা এবং ১২০ দিনের মত সময় লাগবে।

“সেই সময় এবং অর্থ কোনটাই আমাদের হাতে নেই। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করব সময় বাড়ানোর জন্য এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার অনুরোধ করব। তবে এই ঋণটা দীর্ঘমেয়াদী নয়, বরং ২৪ মাসের মধ্যেই আমরা শোধ করে দেব,” বলছেন কোয়াব সভাপতি মি. পারভেজ।

এইসব কিছু নিয়ে আলোচনার জন্য এই মাসেই সরকারের সঙ্গে আরেকটা বৈঠকে তারা বসবেন বলে তিনি জানান।

কারা কী সুবিধা পাবে:
সরকার এবং কেবল অপারেটর প্রতিনিধিরা বলছেন এই সুবিধা গ্রাহক অর্থাৎ দর্শক, সরকার এবং কেবল অপারেটর সবাই পাবে।

গ্রাহকদের সুবিধা:
১.গ্রাহকরা এইচডি (হাই ডেফিনিশন) কোয়ালিটির পরিচ্ছন্ন অনুষ্ঠান দেখতে পাবেন।
২. বিদেশী চ্যানেলের ক্লিন ফিড বা বিজ্ঞাপন ছাড়া অনুষ্ঠান দেখতে পাবেন।
৩.পছন্দ মত অনুষ্ঠান এবং চ্যানেলের তালিকা তৈরি করা হবে, যাতে করে দর্শক তার পছন্দের অনুষ্ঠান বা চ্যানেল সহজেই দেখতে পাবেন।

সরকারের সুবিধা:
সেট টপ বক্স সংযুক্ত করার ফলে সরকার কেবল অপারেটরদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করতে পারবে। মন্ত্রী বলেছেন সেটা টাকার অংকে প্রতিমাসে প্রায় দেড় কোটি টাকার মত হবে।

কেবল অপারেটরদের সুবিধা:
যারা পাড়া-মহল্লায় বিভিন্ন বাসা বাড়িতে কেবল সংযোগ দেন, সেসব অপারেটরদের কাছ থেকে কোয়াব একটা তালিকা পাবে।

মি. পারভেজ বলেন “অনেকে আছেন যারা ২০টা বাসায় কেবল সংযোগ দেন কিন্তু আমাদের বলেন ১০টা বাসা। এক্ষেত্রে সেটা তারা করতে পারবে না। কারণ সেট টপ বক্স নিলে অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল হবে প্রক্রিয়াটা।

”সুতরাং কোন এলাকায় কতজন কেবল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছেন সেটা আমরা জানতে পারবো। তাই টাকা ফাঁকি দেয়ার সুযোগ থাকবে না।”

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে