মহানগর প্রতিনিধি:
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটি শহীদ কর্নেল আবু তাহের বীরউত্তমের ৫০তম হত্যা দিবস পালন করেছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল ৪টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে এ উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট রবিউল আলমের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মীর্জা মো. আনোয়ারুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী)-এর পলিটব্যুরো সদস্য মোশাহিদ আহমেদ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা এবং গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজ সেলিম।
এছাড়া বক্তব্য দেন জাসদের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সফি উদ্দিন মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন খান জকি, শওকত রায়হান, নইমুল আহসান জুয়েল, মোহাম্মদ মহসীন ও ওবায়দুর রহমান চুন্নু, স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুজ্জামান বাদশা, জাতীয় যুব জোটের সভাপতি শরিফুল কবির স্বপন, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সহসভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, জাতীয় নারী জোটের নেত্রী সৈয়দা শামীমা সুলতানা হ্যাপি এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র)-এর সহসভাপতি গোলাম কিবরিয়াসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভায় বক্তারা মুক্তিযুদ্ধে মৃত্যুঞ্জয়ী সেক্টর কমান্ডার, মহান বিপ্লবী এবং ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা শহীদ কর্নেল আবু তাহের বীরউত্তমের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তারা বলেন, শোষণ-বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কর্নেল তাহের চিরকাল প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।
বক্তারা আরও বলেন, কর্নেল তাহের ১৯৭২ সালেই ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রকাঠামো ও পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির পুনরুত্থানের আশঙ্কা করেছিলেন। এ প্রেক্ষাপটে তিনি ‘মুক্তিযোদ্ধারা আবার জয়ী হবে’ শীর্ষক প্রবন্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রকাঠামো ও পুঁজিবাদী ব্যবস্থা পরিবর্তনের সংগ্রাম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
তাদের ভাষ্য, কর্নেল তাহের সমাজতান্ত্রিক আদর্শ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে বিপ্লবী রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।
বক্তারা দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী শক্তি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ, মুক্তিযোদ্ধা ও জনগণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন। তাদের অভিযোগ, কর্নেল তাহেরকে সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের ১ নম্বর সামরিক ট্রাইব্যুনালে মিথ্যা মামলায় সাজানো বিচারের মাধ্যমে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়।
তারা আরও বলেন, কর্নেল তাহের একসময় জিয়াউর রহমানসহ বহু সেনা কর্মকর্তার জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখলেও পরবর্তীতে তাকেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। একই ধারাবাহিকতায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন বলেও বক্তারা দাবি করেন।
সভায় আরও বিভিন্ন সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে জাসদ ও আমন্ত্রিত নেতারা তাদের নিজ নিজ বক্তব্য তুলে ধরেন।
আলোচনা সভার আগে শহীদ কর্নেল আবু তাহের বীরউত্তমের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করে জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটি ও ঢাকা মহানগর কমিটি। এছাড়া বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (মা-লে), গণতন্ত্রী পার্টি, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, জাতীয় শ্রমিক জোট-বাংলাদেশ, জাতীয় যুব জোট, জাতীয় নারী জোট, জাতীয় আইনজীবী পরিষদ এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র) শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
অপরদিকে, একই দিন সকাল সাড়ে ১০টায় জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটি, ময়মনসিংহ জেলা কমিটি ও নেত্রকোনা জেলা কমিটির উদ্যোগে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার কাজলা গ্রামে শহীদ কর্নেল আবু তাহের বীরউত্তমের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
পরে সমাধি চত্বরে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত স্মরণসভায় বক্তব্য দেন জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রতন সরকার, ময়মনসিংহ জেলা জাসদের সদস্য আজিজুল হক, ময়মনসিংহ কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ও ময়মনসিংহ জেলা জাসদের সদস্য নূর হোসেন, ময়মনসিংহ মহানগর জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন এবং নেত্রকোনা জেলা জাসদের প্রচার সম্পাদক সম্রাট হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
কর্ণেল তাহের’র ৫০তম হত্যা দিবস পালন করেছে জাসদ
Date:

