নগর প্রতিবেদক:
লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মোশাররফ হোসেনের স্মরণে শোক ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে জাসদের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের কার্যকরী সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট রবিউল আলম। সভা পরিচালনা করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নইমুল আহসান জুয়েল।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। পরে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন ও সুরা ফাতিহা পাঠ করা হয়।
শোকসভায় বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক, মীর হোসাইন আখতার, বীর মুক্তিযোদ্ধা সফি উদ্দিন মোল্লা, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুজ্জামান বাদশা, ইসমাইল হোসেন, শামীম আরা, মোহাম্মদ মোহসীন, ওবায়দুর রহমান চুন্নু, মীর্জা মো. আনোয়ারুল হক, আমির হোসেন মোল্লা, অ্যাডভোকেট মহিবুর রহমান মিহির, অ্যাডভোকেট মো. সেলিম, শরিফুল কবির স্বপন, আব্দুর রাজ্জাক, রাশিদুল হক ননী, প্রয়াত নেতার পুত্র শাহাদাত হোসেন ইমন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন ও যুক্তরাজ্যপ্রবাসী নুরুল আমিনসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, ষাটের দশকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে মোশাররফ হোসেন স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি বিএলএফ (মুজিব বাহিনী)-এর রামগতি-হাতিয়া জোনের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। জাসদের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আমৃত্যু সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা রাজনৈতিক অঙ্গনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, জাতীয় পর্যায়ের একজন প্রভাবশালী নেতা হয়েও মোশাররফ হোসেন সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও সাদাসিধে জীবনযাপনের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।
সভায় দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন বক্তারা। তারা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী শক্তির পুনরুত্থান ঘটেছে। একই সঙ্গে তারা জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুসহ তাদের ভাষ্য অনুযায়ী রাজনৈতিক কারণে কারাবন্দিদের মুক্তির দাবি জানান এবং এ দাবিতে গণতান্ত্রিক আন্দোলন জোরদারের আহ্বান জানান।

