রাইসা ভূঁইয়া:
কোম্পানিগঞ্জ আজ এক গভীর সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ডে মাদকের বিস্তার এখন আর কোনো গোপন বিষয় নয়; এটি প্রকাশ্য, দৃশ্যমান এবং উদ্বেগজনকভাবে বিস্তৃত। প্রতিদিনই মাদকের ভয়াবহ প্রভাব সমাজের নানা স্তরে প্রতিফলিত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম—শিশু, কিশোর ও তরুণরা।
যে বয়সে একটি শিশুর হাতে বই থাকার কথা, যে বয়সে একজন কিশোরের স্বপ্ন দেখার কথা উচ্চশিক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যতের, সেই বয়সেই অনেকে জড়িয়ে পড়ছে মাদকের অন্ধকার জগতে। মাদকাসক্তি শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না; এটি একটি পরিবারকে বিপর্যস্ত করে, সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে এবং অপরাধপ্রবণতা বাড়িয়ে তোলে। চুরি, ছিনতাই, মারামারি, কিশোর গ্যাং ও অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে মাদকের সম্পর্ক অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
প্রশ্ন হচ্ছে, এত বিস্তৃত মাদক বাণিজ্য কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে? কারা এর পেছনের মূল হোতা? কোন শক্তির আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এই অবৈধ ব্যবসা নির্বিঘ্নে চলতে পারছে? সাধারণ মানুষের মনে আজ এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। মাদক ব্যবসা কখনো এককভাবে পরিচালিত হয় না; এর পেছনে থাকে একটি সংগঠিত চক্র। এই চক্রের সদস্য ও তাদের সহযোগীদের চিহ্নিত করা সময়ের দাবি।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, মাদকের বিস্তার নিয়ে জনমনে শঙ্কা বাড়লেও দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের দায়িত্ব হলো মাদক ব্যবসার মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কেবল খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; প্রয়োজন মাদকের উৎস, সরবরাহ চক্র এবং শেল্টারদাতাদের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান।
একটি সমাজকে ধ্বংস করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো তার তরুণ প্রজন্মকে বিপথে পরিচালিত করা। মাদকের বিস্তার সেই ধ্বংসযজ্ঞেরই অন্যতম হাতিয়ার। কোম্পানিগঞ্জের ভবিষ্যৎকে রক্ষা করতে হলে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং পুরো জনপদ অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয়ের ঝুঁকিতে পড়বে।
আমরা মনে করি, মাদক নির্মূলে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, গডফাদার ও তাদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
কোম্পানিগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা একটাই—মাদকের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান এবং একটি নিরাপদ, সুস্থ ও সম্ভাবনাময় সমাজ গঠন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

