কোম্পানীগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের নামে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয় এমপিও ভুক্ত করার দাবী

0
138

শাহাদাত হোসেন নিশাদ :: নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৫ নং চরফকিরা ইউনিয়নে ৮ নং ওয়ার্ড, ১৬ নং স্লুইজগেইট সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা বাজার নামক স্থানটি উপজেলার সকল মুক্তিকামী মানুষদের তীর্থস্থান। এই স্থানে সমাহিত আছেন ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় কোম্পানীগঞ্জের বামনীতে পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ তিন বীর মুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান লাতু, ছালেহ আহমেদ মজুমদার ও ইসমাইল। এলাকার মানুষ সম্মুখ যুদ্ধে শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে স্থানীয় বাজারের নামকরণ করেন মুক্তিযোদ্ধা বাজার এরপর এলাকাবাসীর উদ্যেগে ২০০১ সনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কথা বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে ও অত্র অঞ্চলের মানুষকে আত্মনির্ভরশীল এবং শিক্ষিত হিসাবে গড়ে তুলতে কিছু শিক্ষানুরাগী মানুষের আপ্রান চেষ্টায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা  এ, এস, আই উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

২০১২ সালের জরিপ অনুযায়ী অত্র ইউনিয়নের জন সংখ্যা ২৬৩১০ জন। ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৫৮২ জন। শিক্ষার হার ৫১%, বিস্তৃর্ণ চরাঞ্চলে নিবিড় কোন মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই। এই স্কুলের ১০ কিলোমিটার দক্ষিনে নদী, তারপর চরকলমী ও চর রমজান। পূর্বে ২০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে ছোট ফেনী নদী, ৭ কিলোমিটার দূরে পেশকারহাট উচ্চবিদ্যালয়, ৬ কিলোমিটার পশ্চিমে চরফকিরা উচ্চ বিদ্যালয়।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অত্র স্কুলের পড়া লেখার মান খুবই সন্তোষ জনক, ২০১১ সালে জে.এস.সি ও এস.এস.সি পাশের হার ১০০%, ২০১২ সালে জে.এস.সি ৯৩%, ও এস.এস.সি পাশের হার ৮৭.৫%, ২০১৩ সালে জে.এস.সি ও এস.এস.সি পাশের হার ৮৭.৭%, ২০১৪ সালে জে.এস.সি ও এস.এস.সি পাশের হার ১০০%, ২০১৫ সালে জে.এস.সি ৮১.২৫, ও এস.এস.সি পাশের হার ৭৫%, বর্তমান স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ২৬৯ জন।

স্কুলের পাঠদান ও শিক্ষা প্রদানের মান সন্তোষজনক হলেও দুঃখের বিষয় ১৬ টি বছর অত্র স্কুলের শিক্ষকরা নামমাত্র বেতনে পাঠদান করে আসছেন। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি ও এলাকাবাসীর স্কুলটিকে এমপিও ভুক্ত করার জন্য বাববার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানিয়ে আসছেন।২০১৪ ইং সনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পরিদর্শনকালে নির্দেশ প্রদান করেন যে, যে সমস্ত স্কুল নদী উপকূলীয় এবং সাধারন জনগনের উদ্যোগে করা হয়েছে, সে সমস্ত স্কুলের তালিকা প্রদান করার জন্য। তারই প্রেক্ষিতে অত্র স্কুলে অডিট আসে, অডিটের আলোকে ২০১৫ ইং সনে অত্র স্কুলের সমস্ত কাগজপত্র প্রদান করা হয়। এখন পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধেের স্মৃতিজড়িত স্কুলটি অবহেলীত অবস্থায় পড়ে আছে।

২০১১সনে স্কুলের শতভাগ পাশ ও অবহেলিতের বিবরন তুলে ধরে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বর্তমান সড়ক, পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরর নজরে আসলে তিনি স্কুলের জন্য এক লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করেন।  উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল ও চরফকিরা ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন লিটনের সহায়তায় ও বিভিন্ন সরকারী ছোট ছোট অনুদান পেয়ে স্কুলটির অবকাঠামোগত কিছু উন্নয়ন হয়েছে যা প্রয়োজনের তুলনায় নগন্য।

মুক্তি যোদ্ধােদের স্মৃতি জড়িত স্কুলকে এমপিও ভুক্ত করতে সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর ওবায়দুল কাদেরের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছে অ্ত্র এলাকাবাসী।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে