নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট বাজারে অবস্থিত ‘এস বি কমিউনিকেশন’ নামের একটি পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ ভল্ট থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সকালে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকীম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান,
ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের মালিক ইমন সাহা ছয়জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার ভিত্তিতে ওই দিন রাতেই উপজেলার বসুরহাট বাজারের কলেজ গেট এলাকা থেকে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কবিরহাট উপজেলার নূরসোনাপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম (২৯), কালুয়া দিঘিরপাড় এলাকার ইমাম হোসেন (২৪) এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের নজরুল ইসলাম (২১)।
মামলা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের ক্যাশিয়ার অমিত সাহা ২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি চাকরিতে যোগ দেন। সম্প্রতি তার আচরণ ও কর্মস্থলে উপস্থিতি নিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। গত রোববার সকাল ১০টার দিকে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। প্রথমে তিনি দ্রুত অফিসে আসবেন বলে জানালেও পরে তার বাসা তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।
এরপর প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা ক্যাশ ভল্ট ও হিসাবপত্র যাচাই করে প্রায় ৬০ লাখ টাকার ঘাটতি শনাক্ত করেন। অভিযোগে বলা হয়, অমিত সাহা তিনটি পৃথক ক্যাশ চালানে যথাক্রমে ২০ লাখ টাকা, ২১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রতিষ্ঠানের তিন কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তরের তথ্য নথিভুক্ত করেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তারা এসব অর্থ গ্রহণ করেননি।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ক্যাশিয়ার অমিত সাহা পলাতক রয়েছেন। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ইমন সাহা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে প্রতারণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ ভল্ট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। তিনি দ্রুত অর্থ উদ্ধার এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মো. নুরুল হাকীম বলেন, মামলায় ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রধান আসামিসহ অন্যদের গ্রেপ্তার এবং আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

